তিন মাসের জ্বালানি মজুত নিশ্চিতে কাজ করছে সরকার, পেট্রোল-অকটেনে প্রস্তুতি সম্পন্ন

✍️ প্রতিবেদক: দীপ্ত বাংলাদেশ নিউজ ডেস্ক

দেশে জ্বালানি সংকট মোকাবিলা ও দীর্ঘমেয়াদী নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সব ধরনের জ্বালানির তিন মাসের মজুত গড়ে তোলার কাজ করছে সরকার। রবিবার (৫ এপ্রিল) সচিবালয়ে নিজ দপ্তরে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত এই তথ্য জানান।

প্রতিমন্ত্রী জানান, বৈশ্বিক পরিস্থিতির কারণে আগের অনেক সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠান ‘ফোর্স মেজর’ (চুক্তি পালনে দায়মুক্তি) ঘোষণা করায় সরকার জ্বালানি সংগ্রহের জন্য নতুন নতুন উৎস অনুসন্ধান করেছে। তিনি বলেন, “আমরা কিছু ভালো সোর্স পেয়েছি এবং তাদের সঙ্গে চুক্তিবদ্ধ হয়েছি। পেট্রোল ও অকটেনের ক্ষেত্রে তিন মাসের মজুত আমরা ইতিমধ্যে নিশ্চিত করতে পেরেছি। ডিজেলের ক্ষেত্রেও তিন মাসের মজুত নিশ্চিত করার প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।”

জ্বালানি মজুত রাখার সক্ষমতা বা স্টোরেজ ক্যাপাসিটি বাড়ানোর বিষয়ে প্রতিমন্ত্রী বলেন, শুধু জ্বালানি আনলেই হবে না, তা রাখার জায়গাও প্রয়োজন। এজন্য সরকারি বিভিন্ন দপ্তর যেমন—বিএডিসি, রেলওয়ে এবং বেসরকারি খাতের পাওয়ার প্ল্যান্টগুলোর অব্যবহৃত স্টোরেজ ক্ষমতা ব্যবহারের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। এপ্রিল মাসের জন্য প্রয়োজনীয় সব ধরনের জ্বালানির (ডিজেল, পেট্রোল, এলএনজি, এলপিজি, জেট ফুয়েল) প্রস্তুতি সম্পন্ন হয়েছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।

রাশিয়া থেকে তেল কেনার বিষয়ে প্রতিমন্ত্রী জানান, পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে ওয়াশিংটনে মার্কিন জ্বালানি মন্ত্রীর ফলপ্রসূ বৈঠক হয়েছে। নিষেধাজ্ঞা শিথিলের বিষয়ে বাংলাদেশ যে অনুরোধ করেছে, তা ইতিবাচকভাবে বিবেচনা করার আশ্বাস পাওয়া গেছে।

এদিকে, খুচরা পর্যায়ে বোতলে ভরে বেশি দামে জ্বালানি বিক্রি রোধে ৬৪ জেলার জেলা প্রশাসকদের সঙ্গে বৈঠক করেছে সরকার। প্রতিমন্ত্রী স্পষ্টভাবে জানান, যারা কৃত্রিম সংকট তৈরি করে জনদুর্ভোগ বাড়াচ্ছে, তাদের বিরুদ্ধে অভিযান অব্যাহত রয়েছে। তিনি জনগণকে আতঙ্কিত না হয়ে দায়িত্বশীলতার সঙ্গে জ্বালানি ব্যবহারের আহ্বান জানান।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *