‘বাংলাদেশ ফার্স্ট’ নীতিতে ভারসাম্যপূর্ণ পররাষ্ট্রনীতি অনুসরণ করবে সরকার: হুমায়ুন কবির

✍️ প্রতিবেদক: দীপ্ত বাংলাদেশ নিউজ ডেস্ক

বর্তমান পরিবর্তনশীল বিশ্বব্যবস্থায় কোনো নির্দিষ্ট দেশের ওপর নির্ভরশীল না হয়ে ‘বাংলাদেশ ফার্স্ট’ নীতির ভিত্তিতে একটি বহুমাত্রিক ও ভারসাম্যপূর্ণ পররাষ্ট্রনীতি অনুসরণ করা হবে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর পররাষ্ট্র উপদেষ্টা হুমায়ুন কবির।

শনিবার (৯ মে) রাজধানীর ওয়েস্টিন হোটেলে বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব পিস অ্যান্ড সিকিউরিটি স্টাডিজ (বিআইপিএসএস) আয়োজিত ‘সবার আগে বাংলাদেশ: নতুন বাংলাদেশের পররাষ্ট্রনীতির দৃষ্টিভঙ্গি’ শীর্ষক গোলটেবিল বৈঠকে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

হুমায়ুন কবির বলেন, একক শক্তির আধিপত্যের যুগ এখন শেষের পথে। বিশ্ব রাজনীতি ও অর্থনীতিতে যে নতুন বাস্তবতা তৈরি হচ্ছে, সেখানে বাংলাদেশকে কৌশলগতভাবে নমনীয় থাকতে হবে। জাতীয় স্বার্থ ও সার্বভৌমত্বকে অগ্রাধিকার দিয়ে স্বাধীনভাবে সিদ্ধান্ত গ্রহণই হবে বর্তমান সরকারের মূল লক্ষ্য।

অর্থনৈতিক কূটনীতিকে পররাষ্ট্রনীতির অন্যতম প্রধান স্তম্ভ হিসেবে উল্লেখ করে তিনি জানান, রপ্তানি বাজার সম্প্রসারণ, জ্বালানি নিরাপত্তা এবং আঞ্চলিক বাণিজ্য বৃদ্ধি করতে সরকার কাজ করছে। বিশেষ করে দক্ষিণ এশিয়া, দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া ও ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চলের মধ্যে বাংলাদেশকে একটি অর্থনৈতিক সেতুবন্ধন হিসেবে গড়ে তোলার মহাপরিকল্পনা সরকারের রয়েছে।

ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চল প্রসঙ্গে উপদেষ্টা বলেন, বাংলাদেশ এই অঞ্চলে একটি উন্মুক্ত ও সহযোগিতামূলক অবস্থান সমর্থন করে। বাংলাদেশ কোনো পক্ষ নেবে না, তবে সামুদ্রিক নিরাপত্তা ও টেকসই উন্নয়নের মতো বৈশ্বিক উদ্যোগে সক্রিয়ভাবে অংশ নেবে। এ ছাড়া জলবায়ু কূটনীতিতে বাংলাদেশ কেবল ক্ষতিগ্রস্ত দেশ হিসেবে নয়, বরং বিশ্বমঞ্চে নেতৃত্ব দিতে চায়।

পররাষ্ট্র উপদেষ্টা আরও বলেন, একটি দেশের আন্তর্জাতিক গ্রহণযোগ্যতা নির্ভর করে তার অভ্যন্তরীণ সুশাসন ও গণতন্ত্রের ওপর। বাংলাদেশ আর কখনো স্বৈরাচারের অন্ধকার সময়ে ফিরে যাবে না উল্লেখ করে তিনি জানান, দেশে জবাবদিহিতা ও সুশাসন নিশ্চিত করার মাধ্যমে একটি সার্বভৌম ও বিশ্বব্যাপী সম্মানিত রাষ্ট্র গড়ে তুলতে সরকার অঙ্গীকারবদ্ধ।

বিআইপিএসএস প্রেসিডেন্ট মেজর জেনারেল (অব.) এ এন এম মুনিরুজ্জামানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে দেশি-বিদেশি কূটনীতিক, শিক্ষাবিদ ও সুশীল সমাজের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।