টেকসই উন্নয়ন অর্জনে পাঁচ বছর মেয়াদি কৌশলগত অর্থনৈতিক কাঠামোর ঘোষণা প্রধানমন্ত্রীর

✍️ প্রতিবেদক: দীপ্ত বাংলাদেশ নিউজ ডেস্ক

দীর্ঘ দেড় দশকেরও বেশি সময়ের শাসন-শোষণে ভঙ্গুর হয়ে পড়া বাংলাদেশকে একটি পুনর্গঠিত ও টেকসই রাষ্ট্রে পরিণত করার ঘোষণা দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী জনাব তারেক রহমান। তিনি জানান, দেশের অর্থনীতি ও সামাজিক অবকাঠামোর সার্বিক রূপান্তরে সরকার জাতিসংঘের টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রার (এসডিজি) সাথে সমন্বয় করে পাঁচ বছর মেয়াদি কৌশলগত অর্থনৈতিক কাঠামো বাস্তবায়নের উদ্যোগ গ্রহণ করেছে।

সোমবার (১০ আগস্ট) দুপুরে রাজধানীর শেরেবাংলা নগরের বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে ‘টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে পাঁচ বছর মেয়াদি কৌশলগত কাঠামো নির্ধারণ’ শীর্ষক জাতীয় সম্মেলনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে প্রধানমন্ত্রী এসব কথা বলেন।

প্রধানমন্ত্রী তার বক্তব্যে বিএনপির রাজনৈতিক দর্শনের সাথে আন্তর্জাতিক উন্নয়ন লক্ষ্যের ঐতিহাসিক মিল তুলে ধরে বলেন, শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের ১৯ দফা, বেগম খালেদা জিয়ার ‘ভিশন ২০৩০’ এবং বর্তমান সরকারের ৩১ দফার মূলভাব এসডিজির ‘কাউকে পেছনে ফেলে নয়’ নীতিমালার সমার্থক। তিনি আরও জানান, দেশে চলমান অস্থিরতা ও ভঙ্গুর অবস্থা কাটাতে সরকার ‘পুনরুদ্ধার-পুনর্বাসন-পুনর্গঠন’ বা ‘থ্রি-আর’ (Recovery-Rehabilitation-Reconstruction) কৌশল বাস্তবায়নের মাধ্যমে দীর্ঘমেয়াদি কাঠামোগত রূপান্তর আনবে।

সামাজিক সুরক্ষার ক্ষেত্রে গৃহীত পদক্ষেপগুলো তুলে ধরে তিনি উল্লেখ করেন, ১৭ ফেব্রুয়ারি সরকার গঠনের পর থেকেই ফ্যামিলি কার্ড, কৃষক কার্ড এবং ই-হেলথ কার্ডের মাধ্যমে প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর কাছে সরকারি সুবিধা সরাসরি পৌঁছে দেওয়া হচ্ছে। এর পাশাপাশি স্পোর্টস কার্ড এবং ইমাম-মুয়াজ্জিনদের সম্মানী ভাতার আওতায় আনা হয়েছে, যা চলতি মেয়াদের মধ্যেই দেশের প্রতিটি নাগরিকের আর্থিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করার রূপরেখাকে দৃশ্যমান করবে।

অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী ‘এসডিজি ভিলেজ’ নামে একটি পাইলট প্রকল্পের ঘোষণা দেন। এর অংশ হিসেবে রাঙামাটির কাপ্তাই উপজেলার মিতিঙ্গাছড়ি, খুলনার দাকোপ উপজেলার পানখালী এবং দিনাজপুরের বোচাগঞ্জ উপজেলার নাফানগর গ্রামকে পরীক্ষামূলক মডেল হিসেবে নেওয়া হয়েছে। এসব গ্রামে সরকারি বিভিন্ন সেবা ও সুযোগ-সুবিধা সমন্বিতভাবে বাস্তবায়ন শেষে পুরো দেশে ছড়িয়ে দেওয়া হবে।

সম্মেলনে অন্যান্যের মধ্যে স্থানীয় সরকারমন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী, পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী জোনায়েদ সাকি, প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা ড. রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর ও সরকারের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।