কোরবানির হাটে কৃত্রিমভাবে মোটাতাজা করা গরু চিনবেন যেভাবে: বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ

✍️ প্রতিবেদক: দীপ্ত বাংলাদেশ নিউজ ডেস্ক

আসন্ন ঈদুল আজহাকে কেন্দ্র করে প্রতি বছরের মতো এবারও পশুর হাটে কৃত্রিম উপায়ে মোটাতাজা করা গরু নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। দ্রুত ওজন বাড়ানো এবং পশুকে আকর্ষণীয় দেখানোর লক্ষ্যে কিছু অসাধু খামারি ও ব্যবসায়ী স্টেরয়েড, গ্রোথ হরমোন এবং বিভিন্ন ক্ষতিকর ওষুধ ব্যবহার করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই প্রক্রিয়ায় প্রস্তুতকৃত পশুর মাংস মানবদেহের জন্য দীর্ঘমেয়াদী স্বাস্থ্যঝুঁকির কারণ হতে পারে।

কৃত্রিমভাবে মোটাতাজা করা পশু চেনার উপায় সম্পর্কে বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের (বাকৃবি) ভেটেরিনারি অনুষদের অধ্যাপক ড. মো. মকবুল হোসেন গুরুত্বপূর্ণ তথ্য প্রদান করেছেন। তিনি জানান, এ ধরনের গরু সাধারণত স্বাভাবিক আচরণ করে না। পশুগুলো অত্যন্ত অলস প্রকৃতির হয় এবং এদের শ্বাস-প্রশ্বাসে কষ্ট হতে পারে। এমনকি অনেক সময় এদের মুখ দিয়ে অতিরিক্ত লালা ঝরতেও দেখা যায়।

পশুর শারীরিক গঠন পর্যবেক্ষণের বিষয়ে তিনি আরও বলেন, হরমোন বা স্টেরয়েড ব্যবহারের ফলে পশুর শরীরে অতিরিক্ত চর্বি ও তরল জমে যায়। একে চিকিৎসাবিজ্ঞানের ভাষায় ‘ইডিমা’ বলা হয়। এমন গরুর শরীরের ফোলা অংশে আঙুল দিয়ে চাপ দিলে সেখানে গর্তের সৃষ্টি হয় এবং তা স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরতে অনেক সময় নেয়। অতিরিক্ত ওজনের কারণে এই পশুগুলো সহজে নড়াচড়া করতে পারে না।

জনস্বাস্থ্যের ঝুঁকি উল্লেখ করে ড. মকবুল হোসেন সতর্ক করেন যে, স্টেরয়েড বা অ্যান্টিবায়োটিক দিয়ে মোটাতাজা করা গরুর মাংস নিয়মিত খেলে মানুষের শরীরে স্থূলতা ও কোলেস্টেরল বৃদ্ধি পায়। এছাড়া দীর্ঘমেয়াদে লিভার ও কিডনি মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা থাকে।

তবে বৈজ্ঞানিক পদ্ধতিতে গরু মোটাতাজাকরণকে নিরাপদ বলে আশ্বস্ত করেছেন তিনি। খৈল, ইউরিয়া-মোলাসেস ও সুষম খাদ্যের সঠিক মিশ্রণে বৈজ্ঞানিক উপায়ে পালিত পশুর স্বাস্থ্যঝুঁকি থাকে না। ক্রেতাদের সচেতন থেকে হাটে সুস্থ ও স্বাভাবিক চলাফেরা করা পশু নির্বাচনের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।