মালয়েশিয়া ও চীন সফরে দেশের মানুষের স্বার্থ রক্ষা করেছি: সংসদে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান

✍️ প্রতিবেদক: দীপ্ত বাংলাদেশ নিউজ ডেস্ক

সাম্প্রতিক মালয়েশিয়া ও চীন সফরে দেশের মানুষের স্বার্থ রক্ষার সর্বোচ্চ চেষ্টা করেছেন বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রী জনাব তারেক রহমান। তিনি স্পষ্ট করে বলেছেন, “আমি আমার অবস্থান থেকে আমার দেশের, আমার দেশের মানুষের স্বার্থ নিয়ে কথা বলার এবং সেই স্বার্থ রক্ষা করার চেষ্টা করেছি।”

শনিবার (২৯ জুন) বেলা ১১টার দিকে স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত জাতীয় সংসদের বাজেট অধিবেশনে তিনি এই মন্তব্য করেন। প্রধানমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশের জনগণ তাঁদের স্বার্থ দেখার জন্যই সরকারকে দায়িত্ব দিয়েছে। দলীয় নীতি উল্লেখ করে তিনি বলেন, “আমাদের দলের অবস্থান থেকে আমরা একটি স্লোগান ব্যবহার করি, সেটি হচ্ছে—বাংলাদেশ ফার্স্ট বা বাংলাদেশ প্রথম।”

তারেক রহমান আরও উল্লেখ করেন, এই দ্বিপক্ষীয় সফরের সফলতার পেছনে কোনো ব্যক্তিগত বিষয় বা স্বার্থ নিহিত ছিল না। যদি এই সফরের মাধ্যমে ভালো কোনো কিছু অর্জিত হয়ে থাকে, তবে সেটি এককভাবে বাংলাদেশের অর্জন এবং এ দেশের মানুষের অর্জন। সংসদে ধন্যবাদ প্রস্তাবের ওপর আলোচনায় অংশ নিয়ে বিরোধীদলীয় নেতাসহ অন্য সদস্যরা দেশের পক্ষে কাজ করার যে উৎসাহ জুগিয়েছেন, সে জন্য প্রধানমন্ত্রী সবাইকে আন্তরিক ধন্যবাদ জানান।

এর আগে ধন্যবাদ প্রস্তাবের ওপর সাধারণ আলোচনায় অংশ নিয়ে স্থানীয় সরকার মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, দায়িত্ব গ্রহণের মাত্র চার মাসের মাথায় প্রধানমন্ত্রী বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্ব করে মালয়েশিয়া ও চীন সফর করেছেন। এই সফরের মধ্য দিয়ে দুই দেশের সঙ্গে বাংলাদেশের দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক আরও সুদৃঢ় হয়েছে। অন্যদিকে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেন, প্রধানমন্ত্রীর এই সফরের মূল ভিত্তিই ছিল পারস্পরিক মর্যাদা, পারস্পরিক স্বার্থ, অন্যের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে হস্তক্ষেপ না করা এবং কৌশলগত স্বায়ত্তশাসন।

প্রস্তাবটি সমর্থন করে বিরোধী দলের নেতা ডা. শফিকুর রহমান জানান, দেশের স্বাধীন পররাষ্ট্রনীতি বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে বিরোধী দল সরকারকে সব ধরনের সহযোগিতা প্রদান করবে। তবে একই সঙ্গে বিদেশের সঙ্গে সম্পাদিত যেকোনো মৌলিক চুক্তি চূড়ান্ত করার আগে সংসদে উপস্থাপনের আহ্বান জানান তিনি। আলোচনা শেষে স্পিকার ধন্যবাদ প্রস্তাবটি ভোটে দিলে তা সর্বসম্মতিক্রমে গৃহীত হয়।

উল্লেখ্য, বর্তমান সরকার গঠনের পর প্রথম বিদেশ সফর হিসেবে গত ২১ জুন মালয়েশিয়া যান প্রধানমন্ত্রী জনাব তারেক রহমান। পরদিন মালয়েশিয়ার আনুষ্ঠানিকতা শেষে তিনি চীন সফরে যান। সেখানে চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং ও দেশটির প্রধানমন্ত্রী লি ছিয়াংয়ের সঙ্গে অত্যন্ত ফলপ্রসূ দ্বিপক্ষীয় বৈঠক করেন বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী। এই সফরে চীনের সঙ্গে ১৭টি সমঝোতা স্মারক এবং মালয়েশিয়ার সঙ্গে একটি সমঝোতা ও দুটি দলিল বিনিময় করে বাংলাদেশ।