যাকাত আদায়ে প্রকৃত প্রাপকদের ডেটাবেইজ ও ‘যাকাত টেলিভিশন’ চালুর প্রস্তাব আন্দালিব রহমান পার্থর

✍️ প্রতিবেদক: দীপ্ত বাংলাদেশ নিউজ ডেস্ক

যাকাত ব্যবস্থাকে সুশৃঙ্খল কাঠামোর মধ্যে এনে দেশের দারিদ্র্য বিমোচন ও অর্থনীতিকে আরও গতিশীল করতে যাকাত পাওয়ার যোগ্য ব্যক্তিদের একটি সুনির্দিষ্ট ডেটাবেইজ তৈরি এবং ‘যাকাত টেলিভিশন’ চালুর প্রস্তাব দিয়েছেন বাংলাদেশ জাতীয় পার্টির (বিজেপি) চেয়ারম্যান আন্দালিব রহমান পার্থ।

শনিবার (২৭ জুন) জাতীয় সংসদে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটের ওপর সাধারণ আলোচনায় অংশ নিয়ে ভোলা-১ (সদর) আসনের এই সংসদ সদস্য এসব কথা বলেন। তিনি উল্লেখ করেন, যাকাত বাংলাদেশের অর্থনীতির অন্যতম একটি ‘লুকানো অর্থনীতি’ বা হিডেন ইকোনমি হলেও দেশে প্রতি বছর ঠিক কত টাকা যাকাত দেওয়া হয়, তার কোনো পূর্ণাঙ্গ বা প্রাতিষ্ঠানিক হিসাব নেই।

আন্দালিব রহমান পার্থ প্রস্তাব করেন, দেশের প্রতিটি নির্বাচনী আসনে প্রকৃতপক্ষে কারা যাকাত পাওয়ার যোগ্য, তাদের নাম অন্তর্ভুক্ত করে একটি ডিজিটাল ডেটাবেইজ বা তথ্যভাণ্ডার তৈরি করা উচিত। প্রতি আসনে গড়ে ২০ হাজার জন করে হিসাব করলে দেশব্যাপী খুব সহজেই ৫০ থেকে ৬০ লাখ মানুষের একটি সঠিক তালিকা তৈরি করা সম্ভব। এই ব্যবস্থা চালু হলে দেশে এবং বিদেশে থাকা সামর্থ্যবান দাতারা ওয়েবসাইট বা অ্যাপের মাধ্যমে খুব সহজেই প্রকৃত ও অভাবী মানুষের কাছে তাঁদের যাকাতের অর্থ পৌঁছে দিতে পারবেন। একই সঙ্গে যাকাত ব্যবস্থার গুরুত্ব ও নিয়মকানুন সাধারণ মানুষের কাছে জনপ্রিয় করতে একটি স্বতন্ত্র ‘যাকাত টেলিভিশন’ চালু করারও পরামর্শ দেন তিনি।

প্রস্তাবিত বাজেটের সামাজিক সুরক্ষা ও কল্যাণমূলক বিভিন্ন দিক নিয়ে সন্তোষ প্রকাশ করে বিজেপির চেয়ারম্যান বলেন, এই বাজেটেই মূলত একটি স্বৈরাচারী সরকার ও জনগণের নির্বাচিত সরকারের মধ্যকার মূল পার্থক্য স্পষ্ট হয়েছে। এবারের বাজেটে এতিম, নারী, বিপন্ন মানুষ ও শারীরিকভাবে চ্যালেঞ্জের সম্মুখীন নাগরিকদের কল্যাণে সুনির্দিষ্ট চিন্তাভাবনা ও প্রতিফলন দেখা যাচ্ছে।

দেশের ব্যাংকিং খাত প্রসঙ্গে পার্থ বলেন, প্রচলিত সাধারণ ব্যাংকিং ব্যবস্থা থেকে রাতারাতি বা একদিনেই সম্পূর্ণ ইসলামী ব্যাংকিংয়ে রূপান্তর সম্ভব নয়। তবে যুক্তরাজ্য ও মালয়েশিয়াসহ বিশ্বের বিভিন্ন উন্নত দেশ যেভাবে ইসলামী অর্থায়নকে উৎসাহিত করছে, সেই ধারাবাহিকতায় বাংলাদেশ সরকারকেও এই খাতের সম্প্রসারণে আরও সক্রিয় ভূমিকা নিতে হবে। বিগত সময়ে কিছু ইসলামী ব্যাংকে ঘটে যাওয়া অনীহা ও অনিয়মের সমালোচনা করে তিনি বলেন, মূল সমস্যা ইসলামী ব্যাংকিং ব্যবস্থার নয়, বরং সমস্যা ছিল তাদের মধ্যে যারা ব্যাংক লুটপাট করেছে। ইসলামী ব্যাংকিংয়ের সঠিক সম্প্রসারণ দেশের অর্থনীতিতে টেকসই স্থিতিশীলতা ও কল্যাণ বয়ে আনবে।

জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) অতীত কার্যক্রমের সমালোচনা করে তিনি জানান, পূর্ববর্তী সরকারগুলোর সময়ে সরাসরি রাষ্ট্রীয় পৃষ্ঠপোষকতায় দুর্নীতি হওয়ার কারণে রাজস্ব আদায় মারাত্মকভাবে ব্যাহত হয়েছিল। তখন জাতীয় উন্নয়নের চেয়ে পরিকল্পিতভাবে অর্থ লুটপাট করাই ছিল মূল লক্ষ্য। তবে বর্তমান সরকারের গত চার মাসের মেয়াদে বড় ধরনের কোনো ব্যাংক লুট বা রাজনৈতিক প্রশ্রয়ে ব্যাংক দুর্নীতির ঘটনা ঘটেনি উল্লেখ করে তিনি বলেন, দেশকে একটি সত্যিকারের কল্যাণরাষ্ট্র হিসেবে গড়ে তুলতে এই সরকারকে পূর্ণ সুযোগ দেওয়া উচিত।