স্বচ্ছ প্রক্রিয়ায় খুলছে মালয়েশিয়ার শ্রমবাজার, প্রথম ধাপে বিনাখরচে যাবে ১০ হাজার কর্মী

✍️ প্রতিবেদক: দীপ্ত বাংলাদেশ নিউজ ডেস্ক

স্বচ্ছ প্রক্রিয়ার মাধ্যমে মালয়েশিয়ার শ্রমবাজার পুনরায় উন্মুক্ত হতে যাচ্ছে বলে জানিয়েছে প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়। নতুন প্রক্রিয়ায় দেশটির সরকার কর্তৃক নির্বাচিত ২৫টি রিক্রুটিং এজেন্সির পাশাপাশি বোয়েসেলসহ আরও ৩১২টি রিক্রুটিং এজেন্সি ‘অ্যাসোসিয়েটস রিক্রুটমেন্ট এজেন্সি’ হিসেবে কর্মী পাঠানোর সুযোগ পাবে।

শুক্রবার এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে মন্ত্রণালয়টি এই তথ্য নিশ্চিত করেছে।

বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, প্রধানমন্ত্রী জনাব তারেক রহমান তাঁর প্রথম বিদেশ সফরে মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিম ও রাজা সুলতান ইব্রাহিম ইস্কান্দারের সঙ্গে সরাসরি আলোচনার মাধ্যমে শ্রমবাজার পুন খোলার পথ উন্মুক্ত করেন। বাংলাদেশ সরকারের বিশেষ অনুরোধে মালয়েশিয়া কর্তৃপক্ষ ১০ হাজার কর্মীকে সম্পূর্ণ বিনামূল্যে বা ‘জিরো কস্ট’-এ নেওয়ার বিষয়ে নীতিগতভাবে সম্মত হয়েছে। এসব কর্মীর বিমান ভাড়াসহ কোনো প্রকার অভিবাসন ব্যয় লাগবে না এবং তাঁরা বোয়েসেলের বিশেষ চার্টার্ড ফ্লাইটে মালয়েশিয়ায় যাবেন।

মন্ত্রণালয় জানায়, কর্মী সরবরাহকারী প্রধান পাঁচটি দেশের মধ্যে নেপাল ও বাংলাদেশের জন্য ২৫টি করে এবং ভারত, পাকিস্তান ও মিয়ানমারের জন্য ১০টি করে রিক্রুটিং এজেন্সির অনুমোদন দিয়েছে মালয়েশিয়া সরকার। মালয়েশিয়ার উচ্চপর্যায়ের যৌথ কমিটি এ বাছাই প্রক্রিয়া সম্পন্ন করেছে, যাতে বাংলাদেশ সরকারের কোনো সংশ্লিষ্টতা ছিল না।

মেডিকেল সেন্টারের বিষয়ে জানানো হয়, সরকারের অনুরোধে বিতর্কিত কেন্দ্রগুলোকে বাদ দিয়ে বর্তমানে অনুমোদিত ১৬টি মেডিকেল সেন্টারের মাধ্যমে প্রাথমিক কার্যক্রম শুরু হবে। পরবর্তীতে দেশটির তিন মন্ত্রণালয়ের প্রতিনিধি দল বাংলাদেশে এসে সরেজমিনে যাচাই-বাছাই করে নতুন নীতিমালার ভিত্তিতে পূর্ণাঙ্গ তালিকা প্রণয়ন করবে।

কর্মীদের নিরাপত্তা সুনিশ্চিত করতে বিমানবন্দরভিত্তিক হয়রানি বন্ধ, নির্দিষ্ট কোম্পানিতে সশরীরে যোগদান এবং স্থানীয় শ্রম আইন অনুযায়ী বেতন-ভাতা, আবাসন ও চিকিৎসা সুবিধা তদারকি করা হবে। এছাড়া প্রবাসীদের সহায়তায় ২৪ ঘণ্টার মনিটরিং সেল ও হেল্পডেস্ক চালুর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

মন্ত্রণালয় থেকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে, মধ্যস্বত্বভোগী ও প্রতারকদের হাত থেকে বাঁচতে আনুষ্ঠানিকভাবে সুনির্দিষ্ট বিজ্ঞপ্তি ও নির্দেশনা জারি না হওয়া পর্যন্ত কোনো প্রকার আর্থিক লেনদেন, মেডিকেল টেস্ট বা পাসপোর্ট জমা না দিতে।