জাতীয় নির্বাচনের আগে ওয়াজ মাহফিল বা ধর্মীয় অনুষ্ঠানে নির্বাচনি প্রচার সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ

✍️ প্রতিবেদক: দীপ্ত বাংলাদেশ নিউজ ডেস্ক

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠান শেষ না হওয়া পর্যন্ত ধর্মীয় প্রচার তথা ওয়াজ মাহফিলের অনুষ্ঠানে কোনো দল বা প্রার্থীর পক্ষে নির্বাচনি প্রচার চালানো সম্পূর্ণভাবে নিষিদ্ধ করেছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। এই নিষেধাজ্ঞা কার্যকর করতে ইসি ইতোমধ্যে স্বরাষ্ট্র ও ধর্ম সচিবকে চিঠি দিয়েছে। এছাড়া, এই সময়কালে ওয়াজ মাহফিলের আয়োজন করতে হলে নির্বাচন কমিশনের পূর্বানুমতি নেওয়া বাধ্যতামূলক করা হয়েছে।

ইসি সূত্র নিশ্চিত করেছে, ধর্মীয় অনুষ্ঠানে নির্বাচনি প্রচার বন্ধে সোমবার স্বরাষ্ট্র ও ধর্ম সচিবকে চিঠি দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে, সরকারি ও বেসরকারি সম্প্রচার মাধ্যমে সাধারণ নির্বাচন ও গণভোট উপলক্ষে নির্বাচনি প্রচারের ক্ষেত্রে সব প্রার্থীর জন্য সমান সুযোগ বা ‘লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড’ নিশ্চিত করতে তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের সচিবকেও পৃথক আরেকটি চিঠি দিয়েছে ইসি।

ইসি সচিব আখতার আহমেদ এ প্রতিবেদককে বলেন, “আমরা চিঠি দিয়েছি। ওয়াজ মাহফিলে যেন কেউ নির্বাচনি প্রচার চালাতে না পারে, সেজন্য ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। ধর্মীয় প্রচার করা যাবে। কিন্তু, ধর্মীয় প্রচারের নামে নির্বাচনি প্রচার করা যাবে না।” তিনি আরও বলেন, ভোটকে ঘিরে যাতে কোনো পক্ষ রাজনৈতিক সুবিধা নিতে না পারে, তাই এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি ভোটগ্রহণ শেষ না হওয়া পর্যন্ত ওয়াজ মাহফিলের ওপরে এই নিয়ন্ত্রণ বলবৎ থাকবে।

ওয়াজ মাহফিলের ব্যাপারে ইসির চিঠিতে বলা হয়েছে, আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। ওই সময় পর্যন্ত ওয়াজ মাহফিল বা ধর্মীয় অনুষ্ঠানের অনুমতি না দেওয়ার জন্য কমিশন সিদ্ধান্ত দিয়েছে। তবে ইতোমধ্যে যেসব ধর্মীয় সভা বা ওয়াজের তারিখ নির্ধারিত হয়েছে অথবা বিশেষ কারণে আয়োজনের একান্তই প্রয়োজন হলে, সেক্ষেত্রে রিটার্নিং কর্মকর্তার লিখিত অনুমতি নিয়ে আয়োজন করতে হবে। এসব অনুষ্ঠানে কোনো প্রার্থী, রাজনৈতিক দলের সদস্য বা অন্য কেউ নির্বাচনি প্রচার বা কারও পক্ষে বক্তব্য রাখতে পারবে না। চিঠিতে আরও উল্লেখ করা হয়েছে যে এসব ধর্মীয় অনুষ্ঠান বা ওয়াজ মাহফিলে রিটার্নিং কর্মকর্তা কর্তৃক নিয়োজিত একজন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট নিয়োজিত করতে হবে।

এদিকে, প্রচার সংক্রান্ত বিষয়ে তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ে পাঠানো চিঠিতে বলা হয়েছে, সুষ্ঠু, অবাধ ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচনের জন্য নির্বাচনি পরিবেশ সৃষ্টি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। সরকারি ও বেসরকারি টেলিভিশন চ্যানেলসমূহ তথ্য প্রচারের ক্ষেত্রে সকল প্রার্থীর জন্য সমান সুযোগ তৈরি করে দিয়ে নির্বাচনি পরিবেশ সৃষ্টিতে ভূমিকা রাখতে পারে। আসন্ন সংসদ নির্বাচন ও গণভোট উপলক্ষে আয়োজিত বিভিন্ন অনুষ্ঠান, সাক্ষাৎকার, টকশো বা নির্বাচনি সংলাপে রাজনৈতিক দল ও প্রার্থীর প্রতি সমান সুযোগ নিশ্চিত করতে বলা হয়েছে। পাশাপাশি, রাজনৈতিক দল ও প্রার্থীর আচরণ বিধিমালা-২০২৫ এর বিধি ২৫ অনুযায়ী, গণমাধ্যমে নির্বাচনি সংলাপে অংশগ্রহণকারী প্রার্থী বা দলের প্রতিনিধি যেন ব্যক্তিগত আক্রমণ করে বক্তব্য না দেন, সে বিষয়ে সতর্কতা অবলম্বনের জন্যও অনুরোধ জানানো হয়েছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *