রাজশাহীতে ভারতীয় সহকারী হাইকমিশন অভিমুখে ‘মার্চ’ কর্মসূচি পালনকালে পুলিশের বাধার মুখে পড়েছেন ‘জুলাই ৩৬ মঞ্চ’-এর নেতাকর্মীরা। বৃহস্পতিবার (১৮ ডিসেম্বর) দুপুরে নগরের ভদ্রা মোড় থেকে মিছিলটি শুরু হয়ে হাইকমিশন কার্যালয়ের দিকে যাওয়ার পথে এই উত্তেজনাকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়।
পূর্ব ঘোষণা অনুযায়ী দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে মিছিলটি শুরু হয়। তবে হাইকমিশন কার্যালয়ের প্রায় ১০০ মিটার দূরে পুলিশ শক্ত ব্যারিকেড দিয়ে মিছিলটি আটকে দেয়। আন্দোলনকারীরা সামনে অগ্রসর হওয়ার অনুমতি চাইলে পুলিশ তাতে অস্বীকৃতি জানায়। প্রায় ১৫ মিনিট অপেক্ষার পর বিক্ষোভকারীরা ব্যারিকেড ভেঙে এগিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করলে পুলিশের সঙ্গে তাঁদের ধস্তাধস্তি ও ধাক্কাধাক্কির ঘটনা ঘটে।
পরবর্তীতে আন্দোলনকারীরা ব্যারিকেডের সামনেই রাস্তায় বসে অবস্থান নেন এবং প্রায় এক ঘণ্টা বিক্ষোভ প্রদর্শন করেন। কর্মসূচিতে অংশ নেওয়া জুলাই যোদ্ধা মিফতাহুল জান্নাত ও অন্যান্য নেতৃবৃন্দ তিনটি দাবি তুলে ধরেন: ১. ভারতে আশ্রিত সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ সকল আসামিকে দ্রুত বাংলাদেশে ফেরত পাঠাতে হবে। ২. আসামিদের ফেরত না দেওয়া পর্যন্ত ভারতীয় হাইকমিশনের কার্যক্রম স্থগিত বা প্রত্যাহার করতে হবে। ৩. আজকের শান্তিপূর্ণ কর্মসূচিতে পুলিশের বাধার বিষয়ে জবাবদিহি করতে হবে।
আন্দোলনকারীরা তাঁদের দাবিনামা বোয়ালিয়া অঞ্চলের উপপুলিশ কমিশনার (ডিসি) গোলাম রাব্বানী শেখের কাছে হস্তান্তর করেন। ডিসি গোলাম রাব্বানী জানান, দাবিগুলো জাতীয় পর্যায়ের বিষয় হওয়ায় সেগুলো ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে পাঠানো হবে এবং পুলিশের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগগুলো ভিডিও ফুটেজ দেখে খতিয়ে দেখা হবে।
বিকেল ৩টার দিকে পরিস্থিতি শান্ত হয় এবং আন্দোলনকারীরা এলাকা ছেড়ে চলে যান। কর্মসূচিতে জাতীয় যুবশক্তি, এনসিপি এবং বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের বিভিন্ন স্তরের নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।



