দেশে ক্লোন ফোনের ভয়াবহ চিত্র: এক আইএমইআই নম্বরেই সচল প্রায় ৪ কোটি হ্যান্ডসেট

✍️ প্রতিবেদক: দীপ্ত বাংলাদেশ নিউজ ডেস্ক

ন্যাশনাল ইকুইপমেন্ট আইডেন্টিটি রেজিস্টার (এনইআইআর) চালুর পর বাংলাদেশে ক্লোন ও নকল মোবাইল ফোনের এক ভয়াবহ চিত্র ফুটে উঠেছে। সরকারি তথ্য অনুযায়ী, একটি মাত্র আইএমইআই নম্বর ব্যবহার করে দেশে ৩ কোটি ৯১ লাখ ২২ হাজার ৫৩৪টি স্মার্টফোন ও ডিভাইস চলছে। আজ শুক্রবার এক ফেসবুক স্ট্যাটাসে এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন অন্তর্বর্তী সরকারের ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বে থাকা এবং প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী ফয়েজ আহমদ তৈয়্যব।

প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, দেশের মোবাইল নেটওয়ার্কে বর্তমানে লাখ লাখ ভুয়া আইএমইআই নম্বর সচল রয়েছে। এর মধ্যে ১, ০ বা ৯-এর মতো সংখ্যার একই প্যাটার্নের অসংখ্য নম্বর পাওয়া গেছে। যেমন একটি নির্দিষ্ট আইএমইআই নম্বরেই (৯৯৯৯৯৯৯৯৯৯৯৯৯৯) প্রায় ৪ কোটির কাছাকাছি ডিভাইস শনাক্ত হয়েছে। এ ছাড়া আরও কিছু শীর্ষ আইএমইআই তালিকায় দেখা গেছে, একটি নম্বরে সাড়ে ১৯ লাখ, অন্যটিতে সোয়া ১৫ লাখ এবং শুধুমাত্র ১ ডিজিটের শূন্য (০) আইএমইআই নম্বরে ৫ লাখ ৮৬ হাজারের বেশি ডিভাইস চলছে।

সরকারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, এসব ফোনের রেডিয়েশন টেস্ট বা নিরাপত্তা পরীক্ষা কোনোটিই করা হয়নি, যা জনস্বাস্থ্যের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ হতে পারে। তবে দেশের লাখ লাখ সাধারণ মানুষ এসব ফোন ব্যবহার করায় সরকার এখনই সেগুলো বন্ধ করার পথে হাঁটছে না। আপাতত এসব ফোনকে ব্লক না করে ‘গ্রে’ হিসেবে ট্যাগ করা হবে যাতে জনজীবনে কোনো অসুবিধা তৈরি না হয়।

তদন্তে আরও দেখা গেছে, স্মার্টফোনের পাশাপাশি বিভিন্ন আইওটি (IOT) ডিভাইস যেমন সিসিটিভি ক্যামেরাতেও একই আইএমইআই নম্বর ব্যবহার করা হয়েছে। বর্তমানে অপারেটরদের পক্ষে মোবাইল এবং আইওটি ডিভাইসের আইএমইআই আলাদা করা সম্ভব না হলেও, সরকার বৈধভাবে আমদানিকৃত আইওটি ডিভাইসগুলো আলাদাভাবে ট্যাগের কাজ শুরু করেছে।

ডিজিটাল নিরাপত্তার ক্ষেত্রেও এই ক্লোন ফোনগুলো বড় হুমকি হিসেবে দেখা দিয়েছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের ২০২৪ সালের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ৭৩ শতাংশ ডিজিটাল জালিয়াতি অনিবন্ধিত ডিভাইসের মাধ্যমে ঘটে। অন্যদিকে, ২০২৩ সালে ই-কেওয়াইসি (e-KYC) জালিয়াতির ৮৫ শতাংশই হয়েছে অবৈধ বা পুনঃপ্রোগ্রাম করা হ্যান্ডসেট ব্যবহার করে। একই বছরে ১৮ লাখ ফোন চুরির ঘটনা ঘটলেও ক্লোন আইএমইআই-এর কারণে অধিকাংশ ফোনই উদ্ধার করা সম্ভব হয়নি।

নাগরিকদের কাছে ‘আন-অফিশিয়াল’ ফোনের নামে এসব নকল ফোন বিক্রি করাকে একটি নজিরবিহীন প্রতারণা হিসেবে উল্লেখ করে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, এই চক্রের লাগাম টানা এখন সময়ের দাবি। জালিয়াতি রোধ ও প্রকৃত ব্যবহারকারীদের সুরক্ষা নিশ্চিত করতে পরবর্তী পদক্ষেপ গ্রহণ করবে সরকার।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *