নির্বাচন কমিশনারের বিশেষ অনুরোধে বিএনপির চেয়ারম্যান জনাব তারেক রহমানের পূর্বনির্ধারিত উত্তরাঞ্চল সফর স্থগিত করা হয়েছে। শুক্রবার (৯ জানুয়ারি) রাতে গুলশানে বিএনপি চেয়ারপারসনের রাজনৈতিক কার্যালয়ে দলের স্থায়ী কমিটির জরুরি বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের এই তথ্য জানান দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।
মহাসচিব জানান, আগামী ১১ জানুয়ারি ২০২৬ থেকে জনাব তারেক রহমানের উত্তরবঙ্গের কয়েকটি জেলা সফর করার সিদ্ধান্ত ছিল। এই সফরে তাঁর মজলুম জননেতা মাওলানা আব্দুল হামিদ খান ভাসানী এবং ২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থানে শহীদ আবু সাঈদসহ অন্যান্য শহীদদের কবর জিয়ারত, শ্রদ্ধা নিবেদন ও কিছু পারিবারিক দায়িত্ব পালনের কথা ছিল। তবে নির্বাচনি পরিবেশের গুরুত্ব বিবেচনা করে নির্বাচন কমিশনারের অনুরোধে এই সফর স্থগিত করা হয়েছে।
স্থায়ী কমিটির বৈঠক প্রসঙ্গে মির্জা ফখরুল বলেন, গঠনতন্ত্র অনুযায়ী দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান জনাব তারেক রহমান ‘চেয়ারম্যান’ হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করায় স্থায়ী কমিটির সদস্যরা সন্তোষ প্রকাশ করেছেন। সভায় দেশের চলমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি ও আগামী ফেব্রুয়ারি মাসে অনুষ্ঠিতব্য জাতীয় নির্বাচন নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়।
নির্বাচন নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে মির্জা ফখরুল অভিযোগ করেন, একটি মহল নির্বাচনকে প্রশ্নবিদ্ধ ও বানচাল করার জন্য নানামুখী চক্রান্ত করছে। এর অংশ হিসেবে ধারাবাহিকভাবে রাজনৈতিক সহিংসতা ঘটানো হচ্ছে। তিনি সাম্প্রতিক সময়ে স্বেচ্ছাসেবক দল নেতা আজিজুর রহমান ওরফে মুছাব্বির এবং শহীদ শরিফ ওসমান বিন হাদিকে গুলি করে হত্যার ঘটনার তীব্র নিন্দা জানান।
বিএনপি মহাসচিব হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, এ ধরনের রাজনৈতিক সহিংসতা চলতে থাকলে দেশে অবাধ, সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ নির্বাচনের পরিবেশ বজায় রাখা সম্ভব হবে না। তিনি অবিলম্বে এসব হত্যাকাণ্ডে জড়িতদের গ্রেপ্তার করে আইনের আওতায় আনার দাবি জানান। একইসঙ্গে নির্বাচন ঘিরে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নয়ন এবং রাজনৈতিক অস্থিতিশীলতা রোধে কার্যকর ও দৃশ্যমান উদ্যোগ নেওয়ার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রতি আহ্বান জানান।
বৈঠকে বিএনপি নেতারা অভিমত ব্যক্ত করেন যে, নির্বাচনের আগে সহিংসতা ও অস্থিতিশীলতা বৃদ্ধি পেলে দেশের গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া ব্যাহত হবে। বর্তমান পরিস্থিতিতে নির্বাচনি পরিবেশ বজায় রাখাই দলের প্রধান লক্ষ্য বলে সভায় জানানো হয়।



