১ জুন থেকে মালয়েশিয়ায় কার্যকর হচ্ছে নতুন প্রবাসী কর্মী নীতিমালা

✍️ প্রতিবেদক: দীপ্ত বাংলাদেশ নিউজ ডেস্ক

মালয়েশিয়ায় প্রবাসী কর্মী (এক্সপ্যাট্রিয়েট) নিয়োগের ক্ষেত্রে আমূল পরিবর্তন নিয়ে আসছে দেশটির সরকার। আগামী ১ জুন থেকে নতুন একটি নীতিমালা কার্যকর হতে যাচ্ছে বলে নিশ্চিত করেছে মালয়েশিয়ার স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় (কেডিএন)। মূলত নিয়োগকর্তা এবং শিল্প খাতকে এই নতুন পরিবর্তনের সঙ্গে মানিয়ে নেওয়ার জন্য পর্যাপ্ত সময় দিতেই জুন মাসকে কার্যকরের সময় হিসেবে নির্ধারণ করা হয়েছে।

মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, ২০২৫ সালের ১৭ অক্টোবর অনুষ্ঠিত মন্ত্রিসভার বৈঠকে এই নতুন নীতিমালার অনুমোদন দেওয়া হয়। এই নতুন নিয়মের আওতায় মূলত এমপ্লয়মেন্ট পাশের ক্যাটাগরি ১, ২ ও ৩-এর বেতন কাঠামোতে বড় ধরনের পুনর্গঠন আনা হয়েছে। এর পাশাপাশি মালয়েশিয়ায় একজন প্রবাসী কর্মী সর্বোচ্চ কত দিন বা কত বছর কাজ করতে পারবেন, তারও একটি নির্দিষ্ট মেয়াদ এবার নির্ধারণ করে দেওয়া হয়েছে। উল্লেখ্য, এর আগের নীতিমালাগুলোতে নিয়োগের এই সময়সীমা স্পষ্টভাবে উল্লেখ ছিল না।

নতুন এই পদক্ষেপের মূল উদ্দেশ্য হলো দেশটির ১৩তম মালয়েশিয়া পরিকল্পনার (আরএমকে-১৩) লক্ষ্যমাত্রা অর্জন করা। সরকার চাইছে বিদেশি শ্রমশক্তির ওপর অতিরিক্ত নির্ভরতা কমিয়ে দেশের যোগ্য স্থানীয় জনশক্তিকে কর্মসংস্থানে অগ্রাধিকার দিতে। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় মনে করছে, প্রবাসী কর্মীদের নিয়োগের নির্দিষ্ট মেয়াদ বেঁধে দেওয়ার ফলে উচ্চদক্ষ প্রবাসীরা যেমন দেশের উন্নয়নে অবদান রাখবেন, তেমনি স্থানীয় কর্মীদের জন্য কর্মক্ষেত্রে একটি কার্যকর ‘উত্তরাধিকার পরিকল্পনা’ বা সাকসেশন প্ল্যান তৈরি হবে।

বিবৃতিতে আরও বলা হয়েছে, ২০১৬ সালের বিদ্যমান নীতিমালাকে ২০২২ সাল থেকে বিভিন্ন অংশীজন ও শিল্প খাতের সঙ্গে আলোচনার মাধ্যমে শক্তিশালী ও হালনাগাদ করা হয়েছে। এই রূপান্তর প্রক্রিয়া যেন সুশৃঙ্খল হয় এবং ব্যবসা-বাণিজ্যে কোনো নেতিবাচক প্রভাব না পড়ে, সেজন্য সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোর সঙ্গে ধারাবাহিক পরামর্শ সভা চালিয়ে যাবে কেডিএন।

সবশেষে বলা হয়েছে, ‘মালয়েশিয়া মাদানি’ নীতির আলোকে সরকার প্রতিটি সংস্কার ধাপে ধাপে বাস্তবায়ন করবে। এর দীর্ঘমেয়াদি লক্ষ্য হলো টেকসই অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি নিশ্চিত করা এবং স্থানীয় মানবসম্পদের সর্বোচ্চ উন্নয়ন ঘটানো। এই নতুন নীতিমালার ফলে দেশটির শ্রমবাজারে যেমন স্বচ্ছতা আসবে, তেমনি বিদেশি দক্ষ কর্মীদের সঠিক মূল্যায়ন নিশ্চিত হবে বলে আশা করা হচ্ছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *