রমজানের প্রস্তুতি: যা জানা জরুরি

✍️ প্রতিবেদক: দীপ্ত বাংলাদেশ নিউজ ডেস্ক

পবিত্র রমজান মাস কেবল উপবাস পালনের মাস নয়, বরং এটি আত্মশুদ্ধি, সংযম এবং ইবাদতের মাধ্যমে মহান আল্লাহর নৈকট্য লাভের এক বিশেষ সুযোগ। বছরের অন্য মাসগুলোর তুলনায় রমজানে দৈনন্দিন রুটিনে আমূল পরিবর্তন আসে। তাই হুট করে রমজান শুরু না করে আগে থেকেই মানসিক ও শারীরিকভাবে প্রস্তুতি নিলে পুরো মাসের ইবাদতগুলো অনেক বেশি সহজ ও ফলপ্রসূ হয়।

রমজানের প্রস্তুতির প্রথম ও প্রধান ধাপ হলো নিয়ত সংশোধন ও মানসিক দৃঢ়তা। এই মাসটিকে জীবনের সেরা রমজান হিসেবে কাটানোর সংকল্প করার পাশাপাশি বিগত দিনের ভুলভ্রান্তির জন্য তওবা করে আল্লাহর সাহায্য কামনা করা প্রয়োজন। একইসঙ্গে রোজা ভঙ্গের কারণ, তারাবিহ, সেহরি ও ইফতারের সঠিক নিয়ম বা মাসআলা-মাসায়েলগুলো পুনরায় ঝালিয়ে নেওয়া জরুরি, যাতে ইবাদতে কোনো ধরনের ভুল হওয়ার সম্ভাবনা না থাকে।

রমজানে সময়ের সর্বোচ্চ সদ্ব্যবহার নিশ্চিত করতে একটি সুনির্দিষ্ট ‘চেকলিস্ট’ বা রুটিন তৈরির ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। প্রতিদিন কতটুকু কুরআন তিলাওয়াত করা হবে এবং কোন সময় জিকির ও দোয়ার জন্য বরাদ্দ থাকবে, তা আগে থেকে ঠিক করা থাকলে সময়ের অপচয় কম হয়। যারা সারা বছর নিয়মিত কুরআন পড়তে পারেন না, তারা এখন থেকেই অল্প অল্প করে পড়ার অভ্যাস শুরু করলে রমজানে নিয়মিত তিলাওয়াত বা খতম দেওয়া সহজ হবে।

শারীরিক প্রস্তুতির বিষয়ে বলা হয়েছে, রমজান শুরুর কয়েক দিন আগে থেকেই ভাজাপোড়া বা অতিরিক্ত মসলাযুক্ত খাবার এবং ক্যাফেইন বা চা-কফি পানের অভ্যাস কমিয়ে আনা উচিত। এটি রোজার শুরুর দিকে মাথাব্যথা বা ক্লান্তি রোধে সহায়ক হবে। পাশাপাশি শরীরকে হাইড্রেটেড রাখতে পর্যাপ্ত পানি পানের বিকল্প নেই।

ব্যয়বহুল সময় বাঁচাতে প্রয়োজনীয় মুদি সওদা বা ঈদের কেনাকাটা শাবান মাসেই শেষ করে রাখা উত্তম। এতে রমজানের মূল্যবান সময় বাজারে ব্যয় না করে ইবাদতে লাগানো সম্ভব হবে। এছাড়া এই মাসটিকে ইতিবাচক পরিবর্তনের মাস হিসেবে গ্রহণ করে ধূমপান, মিথ্যা বলা, গিবত বা অতিরিক্ত সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহারের মতো বাজে অভ্যাসগুলো এখন থেকেই বর্জন করার অনুশীলন করা উচিত।

রমজানে নেক আমলের সওয়াব বহুগুণ বৃদ্ধি পায়। তাই আগেভাগেই যাকাতের হিসাব সম্পন্ন করা এবং অসহায় মানুষের জন্য সাহায্যের একটি বাজেট তৈরি করা প্রয়োজন। অন্যদিকে, পরিবারের সদস্যদের সাথে পরামর্শ করে পুষ্টিকর ও হালকা সেহরি ও ইফতারের ‘মিল প্ল্যান’ তৈরি করলে গৃহিণীদের কষ্ট লাঘব হবে এবং তারা ইবাদতের জন্য বাড়তি সময় পাবেন। মূলত সঠিক পরিকল্পনা ও সদিচ্ছার মাধ্যমেই রমজানের প্রকৃত উদ্দেশ্য অর্থাৎ ‘তাকওয়া’ অর্জন করা সম্ভব হবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *