আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠেয় ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট উপলক্ষে নির্বাচনি প্রচারণায় পোস্টার ব্যবহারের ওপর সম্পূর্ণ নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। কমিশনের ‘রাজনৈতিক দল ও প্রার্থীর আচরণ বিধিমালা, ২০২৫’ অনুযায়ী এ নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। গত ২২ জানুয়ারি থেকে শুরু হওয়া এ নির্বাচনি প্রচারণা আগামী ১০ ফেব্রুয়ারি রাত ১২টার মধ্যে শেষ করতে হবে।
আচরণ বিধিমালার ৭ (ক) ধারায় স্পষ্টভাবে উল্লেখ করা হয়েছে যে, নির্বাচনি প্রচারণার কাজে কোনো প্রকার পোস্টার ব্যবহার করা যাবে না। একই সঙ্গে ৭ (খ) ধারা অনুযায়ী, পরিবেশের জন্য ক্ষতিকর ও অপচনশীল দ্রব্য যেমন—রেক্সিন, পলিথিন বা প্লাস্টিক দিয়ে তৈরি কোনো প্রচারপত্র, লিফলেট বা ব্যানার ব্যবহারও কঠোরভাবে নিষিদ্ধ করা হয়েছে।
নির্বাচন কমিশন প্রচার সামগ্রীর রং ও আকারের বিষয়েও নির্দিষ্ট সীমারেখা নির্ধারণ করে দিয়েছে। বিধিমালার ৭ (ঙ) ধারা অনুযায়ী, ইলেকট্রনিক ও ডিজিটাল মাধ্যম ছাড়া অন্য সব প্রচার সামগ্রী (ব্যানার, লিফলেট, হ্যান্ডবিল ও ফেস্টুন) অবশ্যই সাদা-কালো রঙের হতে হবে। ব্যানারের সর্বোচ্চ আয়তন ১০ ফুট বাই ৪ ফুট, লিফলেটের আকার এ-ফোর সাইজ এবং ফেস্টুনের আয়তন অনধিক ১৮ ইঞ্চি বাই ২৪ ইঞ্চি হতে হবে। এসব সামগ্রীতে প্রার্থীর নিজের ছবি ও প্রতীক ছাড়া অন্য কোনো ব্যক্তি বা প্রতীকের ছবি ব্যবহার করা যাবে না।
সম্প্রতি ব্যানার ব্যবহারের বিষয়ে ইসি সচিবালয়ের সিনিয়র সচিব আখতার আহমেদ স্বাক্ষরিত এক নির্দেশনায় জানানো হয়েছে, ব্যানার আনুভূমিক (হরাইজন্টাল) বা উলম্ব (ভার্টিকাল) যেভাবেই হোক না কেন, নির্ধারিত মাপের মধ্যে থাকলেই তা ব্যবহারযোগ্য হবে।
এদিকে, কিছু এলাকায় আচরণবিধি লঙ্ঘন করে পোস্টার ব্যবহারের খবর আসায় মুদ্রণালয় বা ছাপাখানাগুলোর প্রতি বিশেষ সতর্কতা জারি করেছে কমিশন। ইসি সচিবালয়ের পরিচালক (জনসংযোগ) মো. রুহুল আমিন মল্লিক স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, প্রচারণায় পোস্টার ব্যবহার একটি শাস্তিযোগ্য অপরাধ। তাই সব মুদ্রণালয়কে নির্বাচনি পোস্টার মুদ্রণ থেকে বিরত থাকতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। নিবন্ধিত রাজনৈতিক দল ও প্রার্থীদের আচরণবিধি কঠোরভাবে মেনে চলার জন্য কমিশনের পক্ষ থেকে পুনরায় সতর্ক করা হয়েছে।



