যুক্তরাজ্য ভ্রমণে ইচ্ছুক পর্যটকদের জন্য বুধবার (২৫শে ফেব্রুয়ারি) থেকে নতুন ডিজিটাল নিয়ম ETA (Electronic Travel Authorization) পুরোপুরি কার্যকর হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্র ও অস্ট্রেলিয়ার মতো বিশ্বের ৮৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য এই নিয়ম প্রযোজ্য হবে, যারা এতদিন কোনো ভিসা ছাড়াই যুক্তরাজ্যে প্রবেশ করতে পারতেন।
১. ইটিএ (ETA) কী এবং কেন?
ইটিএ হলো যুক্তরাজ্যে প্রবেশের একটি ডিজিটাল অনুমতি। ব্রিটিশ সরকার জানিয়েছে, এই পদ্ধতি অভিবাসন ব্যবস্থাকে আরও আধুনিক ও নিরাপদ করবে। এর মাধ্যমে পর্যটন, ব্যবসা বা স্বল্পমেয়াদী পড়াশোনার জন্য আসা ব্যক্তিদের তথ্য আগেভাগেই যাচাই করা সম্ভব হবে।
২. আবেদন প্রক্রিয়া ও খরচ:
আগ্রহী ভ্রমণকারীদের স্মার্টফোনে অ্যাপের মাধ্যমে আবেদন করতে হবে। এতে খরচ পড়বে ১৬ পাউন্ড (যা ভবিষ্যতে ২০ পাউন্ড পর্যন্ত হতে পারে)। পাসপোর্টের তথ্য, ছবি ও কিছু ব্যক্তিগত প্রশ্নের উত্তর দিয়ে আবেদন সম্পন্ন করতে হবে। আবেদনের অন্তত ৩ কার্যদিবসের মধ্যে ফলাফল পাওয়া যাবে।
৩. দ্বৈত নাগরিকদের জন্য চ্যালেঞ্জ:
যাদের ব্রিটিশ নাগরিকত্বের পাশাপাশি অন্য দেশের পাসপোর্ট আছে, তারা ইটিএ পাবেন না। তাদের যুক্তরাজ্যে ফিরতে হলে ব্রিটিশ পাসপোর্ট অথবা পাসপোর্টের সাথে ‘সার্টিফিকেট অফ এনটাইটেলমেন্ট’ (ফি ৫৮৯ পাউন্ড) যুক্ত থাকতে হবে। অনেক দ্বৈত নাগরিক যারা দীর্ঘদিন ব্রিটিশ পাসপোর্ট ছাড়া যাতায়াত করেছেন, তাদের জন্য এই নিয়ম কিছুটা জটিলতা তৈরি করেছে।
৪. গুরুত্বপূর্ণ তথ্য:
- ট্রানজিট: যারা যুক্তরাজ্যের ভেতর দিয়ে অন্য দেশে যাবেন এবং ইমিগ্রেশন পার হবেন, তাদেরও ইটিএ লাগবে।
- ছাপানো কপি: ইটিএ ডিজিটালভাবে পাসপোর্টের সাথে যুক্ত থাকে, তাই কোনো কাগজ বহনের প্রয়োজন নেই।
- প্রবেশাধিকার: ইটিএ থাকা মানেই নিশ্চিত প্রবেশ নয়; চূড়ান্ত অনুমতি দেবেন ইমিগ্রেশন অফিসার।
- কারা আওতামুক্ত: ব্রিটিশ ও আইরিশ নাগরিক এবং যাদের যুক্তরাজ্যে স্থায়ী বসবাসের (Settled Status) অনুমতি আছে, তাদের ইটিএ লাগবে না।



