সদ্য সমাপ্ত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পর অন্তর্বর্তী সরকার ভেঙে যাওয়ার সাথে সাথেই বিদায়ী উপদেষ্টা পরিষদের সদস্যদের বিরুদ্ধে দুর্নীতির গুরুতর সব তথ্য প্রকাশ্যে আসতে শুরু করেছে। দুর্নীতি দমন কমিশনে (দুদক) জমা পড়া অভিযোগের তালিকায় বর্তমানে সবার শীর্ষে রয়েছেন ছাত্র প্রতিনিধি হিসেবে দায়িত্ব পালন করা সাবেক উপদেষ্টা ও জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)-এর মুখপাত্র আসিফ মাহমুদ সজিব ভূঁইয়া।
দুদক সূত্রে জানা গেছে, আসিফ মাহমুদের বিরুদ্ধে প্রায় ১০ বিলিয়ন বা ১ হাজার কোটি টাকার সমপরিমাণ দুর্নীতির অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে। এসব অভিযোগের একটি বড় অংশ করেছেন সরাসরি ভুক্তভোগীরা, যেখানে ঘুষ প্রদান ও আর্থিক অনিয়মের স্বপক্ষে সুনির্দিষ্ট তথ্য-প্রমাণাদি উপস্থাপন করা হয়েছে। অভিযোগ আছে যে, বিভিন্ন কাজ পাইয়ে দেওয়ার নাম করে মোটা অংকের অর্থ গ্রহণ করলেও পরবর্তীতে কাজ না করে অর্থ আত্মসাৎ করেছেন তিনি।
এছাড়াও তদন্তের আওতায় আসছে তার বিরুদ্ধে আনা ক্রিপ্টোকারেন্সি ও মানিলন্ডারিং-এর অভিযোগ। বিদেশে অর্থপাচার এবং বেআইনি বিটকয়েন লেনদেনের মাধ্যমে বিপুল সম্পদ গড়ার তথ্য দুদকে জমা পড়েছে। ক্রীড়া উপদেষ্টা হিসেবে দায়িত্ব পালনকালে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি) গঠনে সরাসরি রাজনৈতিক হস্তক্ষেপ এবং তার সাবেক এপিএস মোয়াজ্জেম হোসেনের মাধ্যমে টেন্ডারবাজির অভিযোগও বেশ জোরালো।
সবচেয়ে চাঞ্চল্যকর অভিযোগটি হলো ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশনের (ডিএনসিসি) প্রশাসক নিয়োগ কেন্দ্রিক। অভিযোগ উঠেছে, আসিফ মাহমুদ প্রথা ভেঙে নিষিদ্ধ ঘোষিত সংগঠন ‘হিজবুত তাহরীর’-এর নেতা মোহাম্মদ এজাজকে নিয়োগ দিতে সরাসরি সুপারিশ করেছিলেন। বর্তমানে ওই প্রশাসকের বিরুদ্ধেও তদন্ত চলছে। দায়িত্ব ছাড়ার প্রাক্কালে সম্পদের হিসাব প্রকাশ না করার বিষয়টি তার স্বচ্ছতাকে আরও প্রশ্নবিদ্ধ করেছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।



