ইরানের পরবর্তী সর্বোচ্চ নেতা নির্বাচন নিয়ে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সাম্প্রতিক মন্তব্য এবং তেহরানকে ‘আত্মসমর্পণের’ নির্দেশকে কঠোরভাবে প্রত্যাখ্যান ও উপহাস করেছেন দেশটির শীর্ষ কর্মকর্তারা। কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরাকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে সেন্টার ফর মিডল ইস্ট স্ট্র্যাটেজিক স্টাডিজের সিনিয়র রিসার্চ ফেলো আব্বাস আসলানি এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
আসলানি জানান, ট্রাম্পের বিতর্কিত মন্তব্যগুলো তেহরানের নীতিতে কোনো পরিবর্তন আনতে পারেনি; বরং ইরানি নেতৃত্ব তাদের বর্তমান অবস্থানে আরও অটল থাকার ইঙ্গিত দিয়েছে। ইরানি কর্মকর্তাদের মতে, ইরানের সর্বোচ্চ নেতা নির্বাচনের প্রক্রিয়াটি সম্পূর্ণ অভ্যন্তরীণ ও সাংবিধানিক। দেশটির ‘অ্যাসেম্বলি অফ এক্সপার্টস’ নামক প্রতিষ্ঠানটিই কেবল এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষমতা রাখে। ফলে ট্রাম্পের দাবিকে তারা ভিত্তিহীন ও হাস্যকর হিসেবে বিবেচনা করছেন।
গত কয়েক দিনের যুদ্ধকালীন পরিস্থিতি বিশ্লেষণ করে আব্বাস আসলানি আরও বলেন যে, তেহরানের বর্তমান অবস্থানে এক ধরণের বড় আত্মবিশ্বাসের সুর লক্ষ্য করা যাচ্ছে। ডোনাল্ড ট্রাম্পের পক্ষ থেকে তীব্র চাপের মুখেও তারা আমেরিকার সঙ্গে কোনো ধরণের সমঝোতা বা নীতি পরিবর্তনের লক্ষণ দেখাচ্ছে না। বরং ট্রাম্পের মন্তব্যগুলোকে কেন্দ্র করে তারা নিজেদের কঠোর অবস্থানের ধারাবাহিকতা বজায় রাখছে।
আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকদের মতে, ট্রাম্পের সরাসরি হস্তক্ষেপমূলক বক্তব্য ইরানের জাতীয়তাবাদী চেতনাকে আরও উসকে দিয়েছে, যা ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যকার বিদ্যমান উত্তেজনাকে আরও দীর্ঘস্থায়ী করতে পারে।



