ইমাম-মুয়াজ্জিনদের জন্য মাসিক সম্মানি ও উৎসব ভাতা নির্ধারণ করেছে সরকার

✍️ প্রতিবেদক: দীপ্ত বাংলাদেশ নিউজ ডেস্ক

মসজিদের ইমাম, মুয়াজ্জিন, খাদেম ও অন্যান্য উপাসনালয়ে কর্মরত ব্যক্তিদের জন্য মাসিক সম্মানি ও প্রশিক্ষণভিত্তিক কল্যাণ ব্যবস্থা চালু করতে যাচ্ছে সরকার। রোববার (৮ মার্চ) সচিবালয়ে ধর্ম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানান প্রধানমন্ত্রীর জনপ্রশাসন উপদেষ্টা মো. ইসমাইল জবিউল্লাহ। এসময় ধর্মমন্ত্রী কাজী শাহ মোফাজ্জাল হোসাইন কায়কোবাদ উপস্থিত ছিলেন।

উপদেষ্টা জানান, বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) তাদের নির্বাচনী ইশতেহারে দেওয়া প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী এই বিশেষ ভাতা কার্যক্রম শুরু করছে। ১৫ মার্চের মধ্যে সোনালী ব্যাংকের মাধ্যমে পাইলট প্রকল্পের আওতায় নির্বাচিত উপকারভোগীদের অ্যাকাউন্টে প্রথম মাসের সম্মানি পৌঁছে দেওয়া হবে।

প্রাথমিক পর্যায়ে প্রতিটি ইউনিয়ন ও পৌরসভা থেকে একটি করে মোট ৪,৯০৮টি মসজিদ এবং উপজেলা পর্যায়ে ৯৯০টি মন্দির, ১৪৪টি বৌদ্ধ বিহার ও ৩৯৬টি গির্জা এই পাইলট স্কিমের আওতায় থাকছে। সরকার আগামী চার অর্থবছরে মোট চারটি ধাপে এটি পূর্ণাঙ্গভাবে বাস্তবায়ন করবে, যার বার্ষিক বাজেট দাঁড়াবে প্রায় ৪,৪০০ কোটি টাকা।

মসজিদের ক্ষেত্রে ১০ হাজার টাকা। মন্দির, বৌদ্ধবিহার ও গির্জার ক্ষেত্রে আট হাজার টাকা করে বরাদ্দ থাকবে। মসজিদের ইমামরা ৫ হাজার টাকা, মুয়াজ্জিন ৩ হাজার টাকা, খাদেম ২ হাজার টাকা পাবেন। মন্দিরের ক্ষেত্রে পুরোহিত ৫ হাজার টাকা ও সেবাইত ৩ হাজার টাকা পাবেন। বৌদ্ধ মন্দিরে বিহার অধ্যক্ষ ৫ হাজার টাকা ও বিহার উপাধ্যক্ষ ৩ হাজার টাকা এবং গির্জার ক্ষেত্রে যাজক ৫ হাজার ও সহকারী যাজক তিন হাজার টাকা করে পাবেন।

সম্মানি প্রদানের পাশাপাশি ইমাম-মুয়াজ্জিনদের সামাজিক ও নৈতিক ভূমিকা আরও সুদৃঢ় করতে বিশেষ প্রশিক্ষণ ব্যবস্থার পরিকল্পনাও রাখা হয়েছে। স্থায়ীভাবে এই ব্যবস্থা পরিচালনার জন্য ধর্ম সচিবকে প্রধান করে একটি বিশেষ কমিটি গঠন করা হয়েছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *