যুক্তরাষ্ট্রজুড়ে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসনের বিরুদ্ধে ব্যাপক বিক্ষোভ ও গণজমায়েত অনুষ্ঠিত হয়েছে। ‘নো কিংস’ (No Kings) নামক আন্দোলনের তৃতীয় দফায় দেশজুড়ে লাখো মানুষের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ দেখা গেছে। আয়োজকদের দাবি—ইরান যুদ্ধ, কঠোর অভিবাসন নীতি এবং লাগামহীন জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধির প্রতিবাদেই এই বিক্ষোভ। তাদের স্লোগান ছিল— “এটি আমেরিকা, এখানে ক্ষমতা জনগণের; কোনো ‘রাজা’ বা ধনকুবেরের নয়।”
শনিবার দিনভর ওয়াশিংটন ডিসি, নিউইয়র্ক সিটি, লস অ্যাঞ্জেলেস ও বোস্টনসহ প্রায় সব বড় শহরে এই বিক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে। রাজধানী ওয়াশিংটনের লিংকন মেমোরিয়াল ও ন্যাশনাল মল এলাকায় হাজার হাজার মানুষ জড়ো হয়ে ট্রাম্প ও ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্সের অপসারণ দাবি করেন। নিউইয়র্কের টাইমস স্কয়ারে বিশাল জনসমাগমের কারণে পুলিশকে প্রধান সড়কগুলো বন্ধ করে দিতে হয়।
সেন্ট পল এলাকায় আয়োজিত সমাবেশে সংহতি জানিয়ে মঞ্চে ওঠেন কিংবদন্তি সংগীতশিল্পী ব্রুস স্প্রিংসটেন। সেখানে চলতি বছরের জানুয়ারিতে দুই মার্কিন নাগরিক হত্যার ঘটনার বিচার চেয়েও বিক্ষোভকারীরা স্লোগান দেন। অন্যদিকে, দেশের বাইরে প্যারিস, লন্ডন ও লিসবনের মতো শহরগুলোতেও প্রবাসী আমেরিকানরা এই আন্দোলনে অংশ নিয়েছেন।
তবে বিক্ষোভের কিছু স্থানে সংঘর্ষের খবর পাওয়া গেছে। লস অ্যাঞ্জেলেসে ফেডারেল আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ওপর হামলার অভিযোগে দুজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ সেখানে প্রাণঘাতী নয় (non-lethal) এমন অস্ত্র ব্যবহার করে। ডালাস শহরেও পাল্টা বিক্ষোভকারীদের সঙ্গে ধস্তাধস্তির ঘটনায় কয়েকজনকে আটক করা হয়েছে।
এদিকে হোয়াইট হাউজের পক্ষ থেকে এই বিক্ষোভকে গুরুত্বহীন বলে দাবি করা হয়েছে। এক মুখপাত্র একে ‘ট্রাম্প ডিরেঞ্জমেন্ট থেরাপি সেশন’ বলে অভিহিত করে জানান, এসব নিয়ে কেবল সংবাদমাধ্যমই আগ্রহী। তবে রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, দেশজুড়ে এই ক্রমবর্ধমান জনরোষ ট্রাম্প প্রশাসনের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াতে পারে।



