তামিলনাড়ুর রাজনীতিতে দীর্ঘ টানাপড়েনের অবসান ঘটিয়ে সরকার গঠনের জন্য প্রয়োজনীয় ‘ম্যাজিক ফিগার’ স্পর্শ করেছে সুপারস্টার থালাপতি বিজয়ের দল তামিলগা ভেট্রি কাজাগাম (টিভিকে)। থিরুমাভালাভানের নেতৃত্বাধীন দল ভিডুথালাই চিরুথাইগাল কাটচি (ভিসিকে) বিজয়কে নিঃশর্ত সমর্থন দেওয়ার ঘোষণা দেওয়ায় বিধানসভায় প্রয়োজনীয় সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিশ্চিত হয়েছে। এর মাধ্যমেই দক্ষিণের এই রাজ্যে দীর্ঘ ৬২ বছর ধরে চলে আসা ডিএমকে ও এআইএডিএমকে-র দ্বিদলীয় আধিপত্যের অবসান ঘটিয়ে প্রথম কোনো জোট সরকার গঠনের পথ প্রশস্ত হলো।
চলতি সপ্তাহের নির্বাচনে বিজয়ের দল টিভিকে ১০৮টি আসন পেয়ে একক বৃহত্তম দল হিসেবে আত্মপ্রকাশ করলেও সরকার গঠনের জন্য প্রয়োজনীয় ১১৮টি আসনের লক্ষ্যমাত্রা থেকে কিছুটা দূরে ছিল। এর আগে কংগ্রেসের ৫ জন এবং বাম দলগুলোর ৪ জন নবনির্বাচিত বিধায়কের সমর্থন নিয়ে বিজয়ের ঝুলিতে মোট ১১৬টি আসনের সমর্থন জমা হয়। সবশেষ ভিসিকে-র পক্ষ থেকে গুরুত্বপূর্ণ ২টি আসনের সমর্থন যোগ হওয়ায় জোটের মোট সদস্য সংখ্যা এখন ঠিক ১১৮-তে পৌঁছেছে, যা সরকার গঠনের জন্য ন্যূনতম প্রয়োজন।
এর আগে সংখ্যাগরিষ্ঠতা প্রমাণের জটিলতায় বিজয়ের শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠান নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছিল। রাজ্যপাল আর.ভি. আরলেকারের কাছে বিজয় একাধিকবার গেলেও পর্যাপ্ত সমর্থনপত্রের অভাবে তাকে সরকার গঠনের আমন্ত্রণ জানানো হয়নি। রাজ্যপাল সাফ জানিয়ে দিয়েছিলেন, ১১৮ জন বিধায়কের লিখিত সমর্থন ছাড়া সরকার গঠন সম্ভব নয়। বিশেষ করে ভিসিকে-র অবস্থান নিয়ে ধোঁয়াশা থাকায় বিজয়ের এই রাজনৈতিক যাত্রা এক প্রকার ঝুলে ছিল।
রাজনীতিতে পা রাখার মাত্র দুই বছরের মাথায় বিজয়ের এই উত্থান তামিলনাড়ুর ইতিহাসে এক বিশাল চমক হিসেবে দেখা হচ্ছে। এবারের নির্বাচনে ডিএমকে ৫৯টি এবং এআইএডিএমকে ৪৭টি আসন পেয়েছে, যা বিজয়ের দলের প্রাপ্ত আসনের চেয়ে অনেক কম। অন্যান্যদের মধ্যে পিএমকে ৪টি এবং আইইউএমএল ও বাম দলগুলো ২টি করে আসন পেয়েছে। বিজেপি এবং আম্মা মাক্কাল মুনেত্র কাজাগাম ১টি করে আসনে জয়লাভ করেছে।
শরিকদের এই সমর্থনের মাধ্যমে বিজয়ের হাত ধরে তামিলনাড়ুর রাজনীতিতে এখন এক নতুন অধ্যায় শুরু হতে যাচ্ছে।



