ইরান-যুক্তরাষ্ট্র যুদ্ধ উত্তেজনা: জ্বালানি সংকটে বাংলাদেশ, ফুরিয়ে আসছে মজুত

✍️ প্রতিবেদক: দীপ্ত বাংলাদেশ নিউজ ডেস্ক

ডোনাল্ড ট্রাম্পের ইরান অভিযানের জেরে বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে যে অস্থিরতা তৈরি হয়েছে, তার প্রথম শিকার হতে যাচ্ছে বাংলাদেশ। হরমুজ প্রণালীতে ইরানের অবরোধের ফলে আমদানিনির্ভর এই দেশটির তেল ও গ্যাস মজুত দ্রুত ফুরিয়ে আসছে। পরিস্থিতি এমন পর্যায়ে পৌঁছেছে যে, আগামী কয়েক সপ্তাহের মধ্যে দেশটিতে জ্বালানি সরবরাহ পুরোপুরি বন্ধ হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা করা হচ্ছে।

১৭ কোটি মানুষের দেশ বাংলাদেশ তার প্রয়োজনীয় জ্বালানির ৯৫ শতাংশই আমদানি করে, যার বড় অংশ আসে সৌদি আরব, সংযুক্ত আরব আমিরাত ও ইরাকের মতো দেশ থেকে। কিন্তু যুদ্ধের কারণে সরবরাহ ব্যবস্থা ভেঙে পড়ায় চলতি মাসে অপরিশোধিত তেলের আমদানি গত বছরের তুলনায় প্রায় অর্ধেকে নেমে এসেছে। সরকারের ঘনিষ্ঠ সূত্রগুলো জানিয়েছে, মজুত ফুরিয়ে আসার আশঙ্কায় নীতিনির্ধারকরা ক্রমশ উদ্বিগ্ন হয়ে উঠছেন।

এদিকে, রাজধানীর সড়কগুলোতে জ্বালানির জন্য হাহাকার শুরু হয়েছে। পেট্রোল পাম্পগুলোতে ক্যাব চালক ও সাধারণ মানুষের দীর্ঘ লাইন দেখা যাচ্ছে। জ্বালানি সাশ্রয়ে বিশ্ববিদ্যালয়গুলো বন্ধ রাখা হয়েছে এবং সরকারি কর্মকর্তাদের দিনের বেলা বিদ্যুৎ ব্যবহারে মিতব্যয়ী হওয়ার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। গণপরিবহন সংকটে স্থবির হয়ে পড়েছে জনজীবন।

তবে সংকটের এই ভয়াবহ চিত্র সরকার আনুষ্ঠানিকভাবে স্বীকার করছে না। জ্বালানি মন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু সংসদে জানিয়েছেন, দেশে জ্বালানির কোনো অভাব নেই। তার দাবি, আতঙ্কের কারণে মানুষ প্রয়োজনের তুলনায় কয়েক গুণ বেশি তেল কিনছে বলেই পাম্পগুলোতে চাপ সৃষ্টি হয়েছে। অবৈধ মজুতদারদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার ঘোষণাও দিয়েছেন তিনি।

বিশ্লেষকদের মতে, বাংলাদেশ একা নয়; ভারত, দক্ষিণ কোরিয়া, ফিলিপাইন ও ভিয়েতনামও একই ধরনের সংকটে ভুগছে। এই সুযোগে চীন ও রাশিয়ার মতো দেশগুলো জ্বালানি কূটনীতির মাধ্যমে তাদের প্রভাব বিস্তারের চেষ্টা করছে। বাংলাদেশ ইতোমধ্যে রুশ জ্বালানি তেল আমদানির জন্য যুক্তরাষ্ট্রের কাছে বিশেষ অনুমতি চেয়েছে এবং বিকল্প উৎস হিসেবে ইন্দোনেশিয়া ও ভারতের সঙ্গে যোগাযোগ রক্ষা করছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *