হাম নিয়ে আতঙ্ক নয়, সচেতনতাই বড় প্রতিরোধ: শুরু হচ্ছে ‘ন্যাশনাল ইমার্জেন্সি ভ্যাকসিন ক্যাম্পেইন’

✍️ প্রতিবেদক: দীপ্ত বাংলাদেশ নিউজ ডেস্ক

দেশে হামের সংক্রমণ বৃদ্ধি পাওয়ায় জনমনে তৈরি হওয়া আতঙ্ক দূর করতে এবং সঠিক চিকিৎসা ও প্রতিরোধের তথ্য নিয়ে এগিয়ে এসেছে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়। স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন জানিয়েছেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নির্দেশনায় আগামী রবিবার থেকে বাংলাদেশের ইতিহাসে স্বল্পতম সময়ের মধ্যে একটি ‘ন্যাশনাল ইমার্জেন্সি ভ্যাকসিন ক্যাম্পেইন’ শুরু হতে যাচ্ছে।

হাম একটি অত্যন্ত ছোঁয়াচে ভাইরাসজনিত রোগ। আক্রান্ত ব্যক্তির হাঁচি-কাশি বা ড্রপলেটের মাধ্যমে এটি দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে। সাধারণত শরীরে ভাইরাস প্রবেশের ১০–১৪ দিন পর তীব্র জ্বর, সর্দি, কাশি এবং চোখ লাল হওয়ার মতো লক্ষণ দেখা দেয়। কয়েকদিন পর শরীরে বিশেষ ধরনের র‍্যাশ বা লালচে দানা দেখা দেয় যা মুখ থেকে সারা শরীরে ছড়িয়ে পড়ে। ৫ বছরের কম বয়সী শিশু, অন্তঃসত্ত্বা নারী এবং অপুষ্ট শিশুরা এই রোগের সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিতে থাকে। হাম থেকে নিউমোনিয়া, ডায়রিয়া এমনকি মস্তিষ্কে প্রদাহের মতো মারাত্মক জটিলতা তৈরি হতে পারে।

মন্ত্রী জানান, আগে কেবল ৯ থেকে ১৫ মাস বয়সী শিশুদের হামের টিকা দেওয়া হতো। তবে বর্তমান আপদকালীন পরিস্থিতি বিবেচনায় বয়সসীমায় পরিবর্তন আনা হয়েছে। বিশেষ কর্মসূচির আওতায় এখন ৬ মাস থেকে ১০ বছর বয়সী শিশু-কিশোররা এই টিকা নিতে পারবে। যেসব এলাকায় সংক্রমণের হার বেশি, সেখানে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে টিকাদান শুরু হবে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, হাম প্রতিরোধের একমাত্র কার্যকর উপায় হলো এমআর (মিসেলস-রুবেলা) টিকা গ্রহণ। আক্রান্ত শিশুকে পর্যাপ্ত পানি, পুষ্টিকর খাবার এবং পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন পরিবেশে রাখা জরুরি। সমাজে অন্তত ৯৫ শতাংশ মানুষ টিকার আওতায় আসলে এই রোগের বিস্তার রোধ করা সম্ভব। তাই নিজের শিশুর পাশাপাশি চারপাশের শিশুদের টিকা নিশ্চিত করার আহ্বান জানিয়েছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *