দেশের চলমান অর্থনৈতিক পরিস্থিতি বিবেচনায় এবং সরকারের পরিচালন ব্যয় কমিয়ে আনতে একগুচ্ছ কঠোর কৃচ্ছ্রসাধনমূলক সিদ্ধান্ত নিয়েছে মন্ত্রিসভা। এখন থেকে প্রধানমন্ত্রীসহ সকল মন্ত্রী ও প্রতিমন্ত্রীরা তাঁদের সরকারি কার্যক্রমে বরাদ্দকৃত মাসিক জ্বালানির ৩০ শতাংশ কম গ্রহণ করবেন। বৃহস্পতিবার (২ এপ্রিল) জাতীয় সংসদ সচিবালয়ের মন্ত্রিপরিষদ কক্ষে প্রধানমন্ত্রী জনাব তারেক রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত মন্ত্রিসভার চতুর্থ বৈঠকে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
শুক্রবার (৩ এপ্রিল) দুপুরে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে বৈঠকের এই গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্তগুলো জানানো হয়। সরকারি ব্যয় সংকোচনের এই রূপরেখায় বলা হয়েছে, সরকারি খাতে নতুন কোনো গাড়ি, জলযান বা আকাশযান কেনা যাবে না। এমনকি কম্পিউটার ক্রয়ও শতভাগ বন্ধ রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
জ্বালানি সাশ্রয়ের ওপর বিশেষ গুরুত্ব দিয়ে জানানো হয়, শুধু মন্ত্রীদের গাড়ি নয়, সকল সরকারি কার্যালয়েই জ্বালানি, বিদ্যুৎ ও গ্যাসের ব্যবহার ৩০ শতাংশ কমিয়ে আনতে হবে। ভবনের সৌন্দর্যবর্ধন বা শোভাবর্ধন খাতেও বড় ধরনের কাটছাঁট করা হয়েছে; যা আবাসিক ভবনের ক্ষেত্রে ২০ শতাংশ এবং অনাবাসিক বা দাপ্তরিক ভবনের ক্ষেত্রে ৫০ শতাংশ কমানোর আদেশ দেওয়া হয়েছে।
অর্থনৈতিক চাপ সামলাতে ভূমি অধিগ্রহণ প্রক্রিয়াও আপাতত সম্পূর্ণ বন্ধ রাখার ঘোষণা দিয়েছে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ। সরকারের এই কঠোর অবস্থানকে বিশ্লেষকরা বর্তমান বৈশ্বিক ও অভ্যন্তরীণ অর্থনৈতিক সংকট মোকাবিলায় একটি সময়োপযোগী পদক্ষেপ হিসেবে দেখছেন। প্রধানমন্ত্রীর এই ব্যক্তিগত উদ্যোগ প্রশাসনের অন্যান্য স্তরেও মিতব্যয়িতার বার্তা দেবে বলে আশা করা হচ্ছে।



