নদী-খাল দখল ও সংস্কারের ক্ষেত্রে অনিয়ম রোধে ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি ঘোষণা করেছেন পানিসম্পদ মন্ত্রী শহীদ উদ্দীন চৌধুরী এ্যানি। শনিবার (১১ এপ্রিল) বিকেলে চুয়াডাঙ্গার আলমডাঙ্গা উপজেলার বেলগাছি ইউনিয়নে একটি খাল পুনঃখনন কাজের উদ্বোধন শেষে তিনি এ হুঁশিয়ারি দেন। মন্ত্রী নিজে কোদাল দিয়ে মাটি কেটে ৭ কিলোমিটার দীর্ঘ এই খনন কর্মসূচির আনুষ্ঠানিক সূচনা করেন।
অনুষ্ঠানে মন্ত্রী বলেন, “যারা অবৈধভাবে খাল দখল বা আবাদ করে পানির প্রবাহ বাধাগ্রস্ত করছে, তাদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।” তিনি উল্লেখ করেন যে, দীর্ঘদিন সংস্কার না হওয়ায় সেচ ব্যবস্থায় বড় ঘাটতি তৈরি হয়েছে, যা নিরসনে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের সময়কার বৃহৎ জনকল্যাণমূলক উদ্যোগগুলোকে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে সম্পন্ন করছে বর্তমান সরকার।
মন্ত্রী আরও জানান, জলবায়ু পরিবর্তনের ঝুঁকি মোকাবিলায় সরকার আগামী পাঁচ বছরে ২৫ কোটি বৃক্ষরোপণের পরিকল্পনা নিয়েছে। খননকৃত খালের দুপাড়ে সবুজ বনায়ন করার পাশাপাশি স্থানীয় নারী-পুরুষ শ্রমিকদের এই কাজে সম্পৃক্ত করা হবে, যাতে গ্রামীণ অর্থনীতিতে গতি সঞ্চার হয়। এছাড়া খালের পানিতে মাছ ও হাঁস চাষের সুযোগ সৃষ্টির মাধ্যমে কৃষকদের বহুমুখী আয়ের পথ তৈরি করা হবে।
পানি উন্নয়ন বোর্ড সূত্রে জানা গেছে, ইছেরদাড়ী মোড় থেকে শুরু হওয়া এই ৭ কিলোমিটার দীর্ঘ খালের তলদেশের গড় প্রস্থ ৭ মিটার এবং গভীরতা ১.৫ মিটার নির্ধারণ করা হয়েছে। এই প্রকল্প বাস্তবায়িত হলে এলাকার ৫ হাজার ২০০ জন কৃষক সরাসরি সেচ সুবিধা পাবেন।
চুয়াডাঙ্গা জেলা প্রশাসক লুৎফন নাহারের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সংসদ সদস্য মাসুদ পারভেজ রাসেল, পানি উন্নয়ন বোর্ডের প্রধান প্রকৌশলী শাজাহান সিরাজ এবং পুলিশ সুপার মোহাম্মদ রুহুল কবীর খানসহ স্থানীয় নেতৃবৃন্দ।



