‘সরকারের এক ইঞ্চি জমির রাজস্ব ফাঁকি দেওয়ার সুযোগ নেই’, অবৈধ দখলদারদের হুঁশিয়ারি ভূমি প্রতিমন্ত্রীর

✍️ প্রতিবেদক: দীপ্ত বাংলাদেশ নিউজ ডেস্ক

সরকারি জমির রাজস্ব আদায় এবং বেদখল হওয়া ভূমি পুনরুদ্ধারে জিরো টলারেন্স নীতি ঘোষণা করেছেন ভূমি প্রতিমন্ত্রী ব্যারিস্টার মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দীন। বৃহস্পতিবার (২৩ এপ্রিল) বাংলাদেশ সচিবালয়ে ভূমি মন্ত্রণালয়ে নিজ কার্যালয়ে আয়োজিত এক অবহিতকরণ সভায় তিনি এই কঠোর বার্তা দেন।

প্রতিমন্ত্রী স্পষ্ট করে বলেন, “সরকারের এক ইঞ্চি জমির রাজস্ব ফাঁকি দেওয়ার কোনো সুযোগ দেওয়া হবে না। আমাদের মূল লক্ষ্য রাজস্ব বৃদ্ধি এবং অবৈধ দখলদারদের হাত থেকে সরকারি জমি পুনরুদ্ধার করা।” সভায় বিশেষ করে চা বাগানগুলোর ভূমি ব্যবস্থাপনা নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেন তিনি। বিগত ১৩ বছর ধরে যেসব চা বাগান সরকারকে রাজস্ব প্রদান করেনি, তাদের দ্রুত চিহ্নিত করে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের নির্দেশ দেন প্রতিমন্ত্রী।

বর্তমানে দেশে থাকা ১৬৬টি চা বাগানের মোট ২ লাখ ৮২ হাজার ৩৪৬ একর জমির সঠিক ব্যবহারের তথ্য চেয়েছেন প্রতিমন্ত্রী। কোন জমিতে চা চাষ হচ্ছে, কোনটি অনুপযোগী কিংবা অব্যবহৃত—এসবের পৃথক ও নির্ভুল তথ্য দ্রুত প্রদানের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। তিনি আরও জানান, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নির্দেশনা অনুযায়ী দেশের প্রতিটি ইঞ্চি জমির সুরক্ষা নিশ্চিত করা হবে।

একই সভায় ‘গুচ্ছগ্রাম প্রকল্প-৩’ এর অগ্রগতি পর্যালোচনা করা হয়। জানানো হয়, প্রায় ৭৬৩ কোটি টাকা ব্যয়ে ২০ হাজার ভূমিহীন পরিবারকে পুনর্বাসনের লক্ষ্যে প্রকল্পটি চূড়ান্ত করা হয়েছে এবং এটি শীঘ্রই একনেক সভায় উপস্থাপিত হবে। সমতল, উপকূলীয় ও পার্বত্য অঞ্চলের ভৌগোলিক বৈচিত্র্য মাথায় রেখে পৃথক মডেলে ঘর নির্মাণ করা হবে এই প্রকল্পের আওতায়। তবে প্রকৃত সুবিধাভোগীরা যাতে কোনোভাবেই বঞ্চিত না হন, সে বিষয়ে কর্মকর্তাদের বিশেষ সতর্ক থাকার পরামর্শ দেন প্রতিমন্ত্রী।

সভায় ভূমি মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব মো. এমদাদুল হক চৌধুরীসহ উর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

Leave a Reply