বেআইনিভাবে আন্তর্জাতিক ইনকামিং কলের টার্মিনেশন রেট পরিবর্তন করে আইজিডব্লিউ অপারেটরদের সুবিধা দেওয়ার মাধ্যমে সরকারের ৯ হাজার ১০ কোটি ৭৪ লাখ টাকার বেশি রাজস্ব ক্ষতির অভিযোগে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) সাবেক কমিশনারসহ ৬ জন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে মামলা করেছে।
মঙ্গলবার দুদক পরিচালক জালাল উদ্দীন আহমেদ বাদী হয়ে কমিশনের ঢাকা-১ কার্যালয়ে মামলাটি দায়ের করেন।
মামলার আসামিরা হলেন:
- বিটিআরসির সাবেক চেয়ারম্যান ও দুদকের সাবেক কমিশনার মো. জহুরুল হক
- সাবেক বিটিআরসির সাবেক চেয়ারম্যান সুনীল কান্তি বোস
- সাবেক বিটিআরসির সাবেক চেয়ারম্যান ড. শাহজাহান মাহমুদ
- সাবেক ভাইস চেয়ারম্যান ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) মো. আহসান হাবিব খান
- সাবেক কমিশনার মো. রেজাউল কাদের
- সাবেক কমিশনার মো. আমিনুল হাসান
এজাহারে বলা হয়, এক বছরের জন্য পরীক্ষামূলকভাবে নির্ধারিত প্রতি কল মিনিট টার্মিনেশন রেট শূন্য দশমিক শূন্য ৩ মার্কিন ডলারের স্থলে শূন্য দশমিক শূন্য ১৫ মার্কিন ডলার নির্ধারণ করা হয়। একই সঙ্গে সরকারের রেভিনিউ শেয়ারিং ৫১ দশমিক ৭৫ শতাংশের স্থলে ৪০ শতাংশ এবং আইজিডব্লিউ অপারেটরের রেভিনিউ শেয়ারিং ১৩ দশমিক ২৫ শতাংশের স্থলে ২০ শতাংশ করা হয়। এই পরীক্ষামূলক ব্যবস্থাটি ২০১৫ সালের অক্টোবর থেকে ২০১৮ সালের জানুয়ারি পর্যন্ত মোট ২৮ মাস বেআইনিভাবে বহাল রাখা হয়।
দুদক জানিয়েছে, রেভিনিউ শেয়ারিংয়ে কম-বেশি করায় সরকারের আর্থিক ক্ষতি হয় ৩৮৩ কোটি ৭৩ লাখ ৮৩ হাজার টাকা এবং কম রেটে কল আনায় ক্ষতি হয় ২,৯৪১ কোটি ৯৯ লাখ ৩৯ হাজার টাকা। এছাড়া, মূল্যবান বৈদেশিক মুদ্রা অর্জন থেকে বঞ্চিত হওয়ায় রাষ্ট্রের ক্ষতি হয় ৫ হাজার ৬৮৫ কোটি ১ লাখ ২৪ হাজার টাকা। সব মিলিয়ে বিটিআরসি কর্তৃপক্ষের বেআইনি কর্মকাণ্ডের কারণে রাষ্ট্রের সর্বমোট ৯ হাজান ১০ কোটি ৭৪ লাখ ৪৮ হাজার টাকা আর্থিক ক্ষতি হয়েছে।
মামলায় আসামিদের বিরুদ্ধে দণ্ডবিধি, দুর্নীতি প্রতিরোধ আইন এবং মানিলন্ডারিং প্রতিরোধ আইন, ২০১২ এর বিভিন্ন ধারায় অভিযোগ আনা হয়েছে।



