বীরশ্রেষ্ঠ রুহুল আমিনের ৫৪তম শাহাদতবার্ষিকী আজ

✍️ প্রতিবেদক: দীপ্ত বাংলাদেশ নিউজ ডেস্ক

আজ ১০ ডিসেম্বর। মহান মুক্তিযুদ্ধের বীর সেনানি এবং সাত বীরশ্রেষ্ঠের অন্যতম মো. রুহুল আমিনের ৫৪তম শাহাদতবার্ষিকী। ১৯৭১ সালের এই দিনে তিনি খুলনার রূপসা নদীর তীরে পাক হানাদার বাহিনীর সঙ্গে এক সম্মুখসমরে শহীদ হন। দেশের স্বাধীনতা সংগ্রামে তাঁর সর্বোচ্চ আত্মত্যাগ আজও শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করা হয়।

বীরশ্রেষ্ঠ মো. রুহুল আমিন ১৯৩৪ সালের ২ ফেব্রুয়ারি নোয়াখালীর তৎকালীন বেগমগঞ্জ, বর্তমানে সোনাইমুড়ি উপজেলার দেওটি ইউপির বাঘপাঁচরা গ্রামে (বর্তমানে রুহুল আমিন নগর) এক সম্ভ্রান্ত মুসলিম পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন। তাঁর বাবার নাম ছিল আজহার পাটোয়ারী এবং মায়ের নাম জোলেখা খাতুন। ১৯৫০ সালে এসএসসি পাশের পর তিনি ঢাকায় একটি পত্রিকা অফিসে চাকরি নেন এবং পরে নৌবাহিনীতে নাবিক পদে যোগদান করেন। মেধা ও দক্ষতার গুণে তিনি নৌবাহিনীর জুনিয়র কমিশন্ড অফিসার পদে উন্নীত হন।

১৯৭১ সালের জানুয়ারিতে তাকে তৎকালীন পশ্চিম পাকিস্তানের করাচিতে বদলি করা হলেও তিনি সেখানে যাননি। ইতোমধ্যে পাঁচ সন্তান রেখে তাঁর স্ত্রী ইন্তেকাল করেন। পরবর্তীতে তিনি মুক্তিযুদ্ধে অংশগ্রহণ করেন এবং প্রথমে নান্দিয়াপাড়ায় লুৎফুর রহমানের অধীনে যুদ্ধে অংশ নেন। এরপর জেনারেল ওসমানীর নির্দেশে বাংলাদেশ নৌবাহিনী গঠনের লক্ষ্যে ভারতে যাওয়ার নির্দেশ পেয়ে এপ্রিল মাসে ত্রিপুরা সীমান্ত দিয়ে সেখানে পৌঁছান। তিনি ২ নং সেক্টরে যোগ দেন এবং সেপ্টেম্বর মাস পর্যন্ত এই সেক্টরের অধীনে বহু স্থলযুদ্ধে অংশগ্রহণ করেন।

বাংলাদেশ নৌবাহিনী গঠনের উদ্দেশ্যে রুহুল আমিন তখন নৌবাহিনীর সদস্যদের সঙ্গে আগরতলায় একত্রিত হন এবং পরে কোলকাতায় নৌ-সেক্টরে যোগ দেন। এ সময় ভারত সরকার থেকে পাওয়া দুটি টাগবোট গানবোটে রূপান্তর করা হয়, যার একটির নাম ছিল ‘পদ্মা’ ও অপরটির নাম ‘পলাশ’। রুহুল আমিন এই ‘পলাশ’ গানবোটের প্রধান ইঞ্জিনিয়ার আর্টিফিসার নিযুক্ত হন।

৬ ডিসেম্বর যশোর সেনানিবাস শত্রুমুক্ত হওয়ার পর নৌপথে যুদ্ধ চলতে থাকে। একপর্যায়ে মোংলা বন্দর খালিশপুরের অধিনায়ক কৌশলগত কারণে নৌযোদ্ধাদের হিরণ পয়েন্টে নিজেদের রণতরি ত্যাগ করতে বলেন। কিন্তু রুহুল আমিন রণতরি ছেড়ে যাওয়ার নির্দেশ মেনে নিতে পারেননি এবং যুদ্ধ চালিয়ে যেতে থাকেন। এ সময় শত্রু বিমানের গোলা এসে ‘পলাশ’-এর ইঞ্জিনরুমে পড়লে আগুন ধরে যায় এবং তাঁর ডান হাত উড়ে যায়। তিনি নদীতে ঝাঁপ দিলেও হানাদার বাহিনীর দোসর রাজাকাররা তাকে ধরে ফেলে এবং অমানুষিক নির্যাতন চালালে এই বীর মুক্তিযোদ্ধা শহীদ হন।

স্বাধীনতাযুদ্ধে চূড়ান্ত বিজয়ের মাসখানেকের মাথায় জানা যায় যে, রুহুল আমিন খুলনার হিরণ পয়েন্টে শত্রুবাহিনীর অতর্কিত বিমান হামলায় রণতরি বিধ্বস্ত হয়ে শহীদ হয়েছিলেন। তাঁর লাশ পাওয়া যায়নি এবং ধারণা করা হয়, তাঁকে খালিশপুরেই দাফন করা হয়েছে। জাতি আজ শ্রদ্ধাভরে এই বীরশ্রেষ্ঠকে স্মরণ করছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *