দেশের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভে বড় ধরনের ইতিবাচক পরিবর্তন লক্ষ্য করা যাচ্ছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে গ্রস রিজার্ভ বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৩৫ দশমিক ০৩ বিলিয়ন ডলারে। আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল (আইএমএফ) নির্ধারিত বিপিএম-৬ পদ্ধতি অনুসরণ করলে এর পরিমাণ দাঁড়ায় ৩০ দশমিক ২৮ বিলিয়ন ডলার।
বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক ও মুখপাত্র আরিফ হোসেন খান তথ্যের সত্যতা নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, বুধবার (২৫ ফেব্রুয়ারি) দিনশেষে রিজার্ভ এই অবস্থানে পৌঁছেছে। এর আগে গত ১৭ ফেব্রুয়ারি রিজার্ভ ছিল ৩৪ দশমিক ৫৪ বিলিয়ন ডলার (বিপিএম-৬ অনুযায়ী ২৯ দশমিক ৮৬ বিলিয়ন)। মাত্র কয়েক দিনের ব্যবধানে এই সূচকের উল্লেখযোগ্য উন্নতি হয়েছে।
তথ্য বিশ্লেষণে দেখা যায়, চলতি বছরের শুরু থেকেই রিজার্ভ ঊর্ধ্বমুখী। গত ২ ফেব্রুয়ারি রিজার্ভ ছিল ৩৩ দশমিক ২৫ বিলিয়ন ডলার। এর আগে ১৫ জানুয়ারি রিজার্ভ ছিল ৩২ দশমিক ৩২ বিলিয়ন ডলার। যদিও জানুয়ারির শুরুতে এশিয়ান ক্লিয়ারিং ইউনিয়নের (আকু) ১ দশমিক ৫৩ বিলিয়ন ডলারের দায় মেটানোর ফলে সাময়িকভাবে রিজার্ভ কমে গিয়েছিল, তবে পরবর্তী সময়ে তা দ্রুত কাটিয়ে ওঠা সম্ভব হয়েছে।
ব্যাংক সংশ্লিষ্টরা বলছেন, রিজার্ভ বাড়ার প্রধান চালিকাশক্তি হলো প্রবাসীদের পাঠানো রেমিট্যান্স। গত জানুয়ারি মাসে রেকর্ড ৩১৭ কোটি ডলার রেমিট্যান্স আসার পর ফেব্রুয়ারিতেও সেই ধারা অব্যাহত রয়েছে। চলতি মাসের প্রথম ২১ দিনেই দেশে ২৩০ কোটি ৮০ লাখ ডলারের রেমিট্যান্স এসেছে, যা গত বছরের একই সময়ের তুলনায় ৩৯ কোটি ৫০ লাখ ডলার বেশি।
উল্লেখ্য, ২০২১ সালের আগস্টে দেশের রিজার্ভ সর্বোচ্চ ৪৮ বিলিয়ন ডলারে পৌঁছেছিল। তবে পরবর্তীতে অর্থ পাচারসহ বিভিন্ন সংকটে তা গত সরকারের পতনের সময় ২০ দশমিক ৪৮ বিলিয়ন ডলারে নেমে আসে। বর্তমান অন্তর্বর্তী সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর রিজার্ভ থেকে ডলার বিক্রি বন্ধ রাখা এবং বিনিময় হার ১২২ টাকার আশেপাশে স্থিতিশীল রাখায় বাজারে ডলার সংকট অনেকটাই কেটে গেছে।



