খামেনির শেষ ভাষণ: ‘প্রতিরোধক্ষম অস্ত্র না থাকলে শত্রুরা পায়ে পিষে ফেলবে’

✍️ প্রতিবেদক: দীপ্ত বাংলাদেশ নিউজ ডেস্ক

শনিবার (২৮ ফেব্রুয়ারি) যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ হামলায় নিহত হওয়ার আগে ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনি তার সর্বশেষ ভাষণে দেশটির সামরিক সক্ষমতা ও জাতীয় নিরাপত্তার গুরুত্ব নিয়ে শক্তিশালী বার্তা দিয়েছিলেন। গত ১৭ ফেব্রুয়ারি দেওয়া সেই ভাষণে তিনি স্পষ্ট করেছিলেন, কেন ইরানকে আধুনিক ও শক্তিশালী অস্ত্রশস্ত্রে সজ্জিত হতে হবে।

জেনেভায় ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যে পরোক্ষ আলোচনা চলাকালীন দেওয়া ওই ভাষণে খামেনি বলেন, “আমাদের অবশ্যই প্রতিরোধক্ষম অস্ত্র থাকতে হবে। কোনো দেশের কাছে যদি পর্যাপ্ত প্রতিরোধক্ষম অস্ত্র না থাকে, তবে শত্রুরা তাকে পায়ের নিচে পিষে ফেলবে।” তিনি আরও যোগ করেন যে, এই ধরনের অস্ত্র থাকা এখন ইরানি জাতির জন্য একটি অপরিহার্য প্রয়োজনে পরিণত হয়েছে।

ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচি নিয়ে পশ্চিমা বিশ্বের, বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের উদ্বেগের তীব্র সমালোচনা করে তিনি বলেছিলেন, “আমেরিকানরা অযথাই আমাদের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে হস্তক্ষেপ করছে। তারা বলছে—তোমরা অমুক ধরনের ক্ষেপণাস্ত্র রাখতে পারবে, অমুক পাল্লার বেশি নয়। এর সঙ্গে তাদের কী সম্পর্ক? এটি সম্পূর্ণ ইরানি জাতির নিজস্ব বিষয়।”

মার্কিন সামরিক শক্তির দাপট নিয়ে হুঁশিয়ারি দিয়ে খামেনি বলেছিলেন, “তাদের মনে হয় এবং যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট বারবার দাবি করেন যে, মার্কিন সেনাবাহিনী বিশ্বের সবচেয়ে শক্তিশালী বাহিনী। কিন্তু মনে রাখা উচিত, সবচেয়ে শক্তিশালী বাহিনীও কখনো এমন ‘চড়’ খেতে পারে যে তারা আর সোজা হয়ে দাঁড়াতে পারে না।” রয়টার্সের প্রতিবেদন অনুযায়ী, তার এই বক্তব্যে মধ্যপ্রাচ্যে ইরানের প্রতিরোধ গড়ে তোলার দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনার প্রতিফলন ছিল।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *