আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির মৃত্যুর পর ইরানের সর্বোচ্চ নেতার পদটি নিয়ে বিশ্বজুড়ে কৌতূহল সৃষ্টি হয়েছে। ইরানের সংবিধান অনুযায়ী, এই পদটি কেবল একটি ধর্মীয় পদ নয়, বরং রাষ্ট্রের আইনসভা, বিচার বিভাগ এবং প্রশাসনের ওপর এর নিরঙ্কুশ অভিভাবকত্ব রয়েছে।
নির্বাচন প্রক্রিয়া ও সুপ্রিম লিডার্স কাউন্সিল:
ইরানে সর্বোচ্চ নেতা সরাসরি জনগণের ভোটে নির্বাচিত হন না। এটি নির্ধারণ করেন ৮৮ জন বিশেষজ্ঞ আলেমের একটি পরিষদ, যা ‘সুপ্রিম লিডার্স কাউন্সিল’ বা ‘মজলিস-এ-খবরেগান’ নামে পরিচিত। এই পরিষদের সদস্যরা প্রতি আট বছর অন্তর জনগণের সরাসরি ভোটে নির্বাচিত হন। তবে শর্ত হলো, এই পরিষদে প্রার্থী হতে হলে ‘গার্ডিয়ান কাউন্সিল’-এর অনুমোদন প্রয়োজন, যাদের অধিকাংশ আবার খামেনির সরাসরি বা পরোক্ষ মনোনীত ছিলেন। নতুন নেতা নির্বাচিত হতে উপস্থিত সদস্যদের দুই-তৃতীয়াংশের সমর্থন প্রয়োজন হয়।
সীমাহীন ক্ষমতা:
সংবিধানের ১১০ নম্বর অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, সর্বোচ্চ নেতার ক্ষমতা অত্যন্ত ব্যাপক। তিনি সশস্ত্র বাহিনীর (বিপ্লবী গার্ডস ও নিয়মিত সেনাবাহিনী) সর্বাধিনায়ক। যুদ্ধ বা শান্তির ঘোষণা, প্রধান বিচারপতি নিয়োগ, রেডিও-টেলিভিশনের প্রধান নিয়োগ এবং এমনকি প্রেসিডেন্টের নিয়োগপত্র জারি বা তাকে অভিশংসনের ক্ষমতাও তার হাতে ন্যস্ত। যদিও দেশটিতে একজন প্রেসিডেন্ট থাকেন, তবে জাতীয় নিরাপত্তা ও পররাষ্ট্রনীতির চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত আসে সর্বোচ্চ নেতার দপ্তর থেকেই।
নেতার অবর্তমানে অন্তর্বর্তীকালীন ব্যবস্থা:
সংবিধানের ১১১ নম্বর অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, সর্বোচ্চ নেতার মৃত্যু হলে তাৎক্ষণিকভাবে তিন সদস্যের একটি পরিষদ দায়িত্ব গ্রহণ করে। এই পরিষদে থাকেন দেশের প্রেসিডেন্ট, বিচার বিভাগের প্রধান এবং গার্ডিয়ান কাউন্সিলের একজন জুরিস্ট। তবে এই পরিষদের ক্ষমতা সীমিত; তারা বড় কোনো নীতিনির্ধারণী সিদ্ধান্ত নিতে ‘এক্সপ্ল্যানেটরি কাউন্সিল’-এর অনুমোদন নিতে বাধ্য থাকেন।
পরবর্তী উত্তরসূরি কে?
খামেনির ৩৬ বছরের দীর্ঘ শাসনামলে তার উত্তরসূরি হিসেবে অনেকের নাম আসলেও বর্তমানে তার ছেলে মুজতবা খামেনিকে অন্যতম শক্তিশালী দাবিদার মনে করা হচ্ছে। তবে ইরানের প্রভাবশালী সামরিক বাহিনী ‘রেভল্যুশনারি গার্ডস’ (আইআরজিসি)-এর সমর্থন যে প্রার্থীর দিকে থাকবে, তিনিই পরবর্তী ‘সুপ্রিম লিডার’ হওয়ার দৌড়ে এগিয়ে থাকবেন বলে বিশ্লেষকদের ধারণা।



