একটি বৈষম্যহীন ও মানবিক কল্যাণ রাষ্ট্র গঠনের লক্ষ্যে সরকারি সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচিতে যুগান্তকারী পরিবর্তন আনতে যাচ্ছে সরকার। আগামী ১০ মার্চ (মঙ্গলবার) সকাল ১০টায় রাজধানীর কড়াইল বস্তি সংলগ্ন টিঅ্যান্ডটি মাঠে ‘ফ্যামিলি কার্ড’ কর্মসূচির শুভ উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী জনাব তারেক রহমান। বৃহস্পতিবার (৫ মার্চ) এক সরকারি তথ্য বিবরণীতে এই গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্তের কথা জানানো হয়েছে।
সরকারের এই নতুন দর্শনে ‘ব্যক্তি নয়, পরিবারই উন্নয়নের মূল একক’ হিসেবে বিবেচিত হবে। বর্তমানে প্রচলিত সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচিগুলোতে বিদ্যমান সমন্বয়হীনতা ও প্রকৃত দরিদ্রদের বাদ পড়ার সমস্যা দূর করতে এই সমন্বিত ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম তৈরি করা হয়েছে। ‘প্রক্সি মিনস টেস্ট (পিএমটি)’ নামক বৈজ্ঞানিক পদ্ধতিতে সম্পদের ভিত্তিতে প্রকৃত অভাবী পরিবারগুলোকে কার্ডের জন্য নির্বাচন করা হবে। ভূমিহীন, প্রতিবন্ধী, হিজড়া ও ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর পরিবারগুলো এই তালিকায় অগ্রাধিকার পাবে।
নারীর ক্ষমতায়ন নিশ্চিত করতে ফ্যামিলি কার্ডটি পরিবারের নারী প্রধান বা মায়ের নামে ইস্যু করা হবে। পাইলট পর্যায়ে প্রতিটি পরিবার প্রতি মাসে ২,৫০০ টাকা সরাসরি তাদের মোবাইল ওয়ালেট বা ব্যাংক অ্যাকাউন্টে পেয়ে যাবেন। এছাড়া এই কার্ডের মাধ্যমে ওটিপি ভেরিফিকেশনের সাহায্যে সাশ্রয়ী মূল্যে খাদ্য সহায়তাও নিশ্চিত করা হবে। ২০৩০ সালের মধ্যে এই কার্ডকে ‘সর্বজনীন সোশ্যাল আইডি কার্ড’-এ রূপান্তরের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছে সরকার।
প্রাথমিক পর্যায়ে ঢাকার কড়াইল বস্তি ছাড়াও রাজবাড়ীর পাংশা, চট্টগ্রামের পটিয়া, বান্দরবানের লামা, খুলনার খালিশপুর এবং ভোলার চরফ্যাশনসহ দেশের মোট ১৩টি এলাকায় এই প্রকল্প বাস্তবায়ন করা হবে। প্রকল্পের মোট বাজেটের ৭৭ শতাংশই সরাসরি দরিদ্রদের হাতে নগদ সহায়তা হিসেবে পৌঁছে দেওয়া হবে। বাকি অর্থ স্মার্ট কার্ড প্রিন্টিং, তথ্য সংগ্রহ ও অন্যান্য প্রশাসনিক কাজে ব্যয় হবে।



