‘ইরানের সব ড্রোন ধ্বংস করা সম্ভব নাও হতে পারে’: মার্কিন সামরিক কর্মকর্তাদের সতর্কবার্তা

✍️ প্রতিবেদক: দীপ্ত বাংলাদেশ নিউজ ডেস্ক

ইরানের প্রতিশোধমূলক ড্রোন হামলা মোকাবিলা নিয়ে খোদ মার্কিন সামরিক মহলে শঙ্কা দেখা দিয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের শীর্ষ সামরিক কর্মকর্তারা এক গোপন বৈঠকে কংগ্রেস সদস্যদের সতর্ক করে জানিয়েছেন যে, ইরান থেকে ছোড়া প্রতিটি ড্রোন ধ্বংস করা পেন্টাগনের পক্ষে সম্ভব নাও হতে পারে। ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম ‘দ্য গার্ডিয়ান’-এর বরাতে এই তথ্য জানা গেছে।

মার্কিন জয়েন্ট চিফস অফ স্টাফের চেয়ারম্যান জেনারেল ড্যান কেইন জানান, ইরান বর্তমানে হাজার হাজার ‘ওয়ান-ওয়ে’ বা একমুখী আক্রমণাত্মক ড্রোন (শাহেদ) ব্যবহার করছে। এই ড্রোনগুলো তুলনামূলক ধীরে এবং নিচু উচ্চতায় ওড়ায় প্রচলিত উন্নত প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা বা রাডারকে ফাঁকি দিতে সক্ষম। জেনারেল কেইন বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের কাছে ড্রোন ধ্বংসের ক্ষমতা থাকলেও, একসাথে বিপুল সংখ্যক ড্রোন ছোড়া হলে সব কটি লক্ষ্যভেদ করা প্রায় অসম্ভব। এই চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় যুক্তরাষ্ট্র এখন আকাশপথের চেয়ে মাটির ওপর থাকা ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র উৎক্ষেপণ কেন্দ্রগুলো দ্রুত ধ্বংস করার দিকে বেশি গুরুত্ব দিচ্ছে।

বৈঠকে কংগ্রেসের ডেমোক্র্যাট সদস্যরা উদ্বেগ প্রকাশ করেন যে, ইরানের ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন ঠেকাতে গিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের মূল্যবান প্যাট্রিয়ট ও থাড ইন্টারসেপ্টরগুলোর মজুত দ্রুত শেষ হয়ে যাচ্ছে। তবে জেনারেল কেইন প্রকাশ্যে দাবি করেছেন যে, যুক্তরাষ্ট্রের অস্ত্র মজুত পর্যাপ্ত রয়েছে।

প্রতিরক্ষা বিশ্লেষকদের মতে, যুদ্ধের শুরুর দিকে যুক্তরাষ্ট্রের দৈনিক ব্যয় ছিল প্রায় ২ বিলিয়ন ডলার, যা বর্তমানে ১ বিলিয়ন ডলারে নেমে এসেছে। হোয়াইট হাউসের মুখপাত্র ক্যারোলিন লিভিট জানিয়েছেন, যুক্তরাষ্ট্রের অস্ত্র মজুত যথেষ্ট শক্তিশালী। তিনি আরও উল্লেখ করেন যে, গত কয়েক বছর ইউক্রেনকে বিপুল অস্ত্র দেওয়ার ফলে মজুতে যে প্রভাব পড়েছে, ট্রাম্প প্রশাসন তা কাটিয়ে ওঠার চেষ্টা করছে।

এদিকে ইরানের ড্রোন কৌশল হলো—যুক্তরাষ্ট্রকে তাদের সবচেয়ে দামি ইন্টারসেপ্টরগুলো ব্যবহার করতে বাধ্য করা। পেন্টাগন এই কৌশল ব্যর্থ করার দাবি করলেও, খোদ জেনারেলদের সতর্কবার্তা পরিস্থিতি ভিন্ন দিকে মোড় নেওয়ার ইঙ্গিত দিচ্ছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *