দৌলতদিয়ায় বাসডুবিতে নিহতের সংখ্যা বেড়ে ২৬, পরিচয় মিলেছে সবারই

✍️ প্রতিবেদক: দীপ্ত বাংলাদেশ নিউজ ডেস্ক

রাজবাড়ীর দৌলতদিয়ায় পদ্মা নদীতে বাসডুবির ঘটনায় নিহতের সংখ্যা বেড়ে ২৬ জনে দাঁড়িয়েছে। উদ্ধারকৃতদের মধ্যে ৮ জন পুরুষ, ১১ জন নারী এবং ৭ জন শিশু রয়েছেন। নিহতদের মধ্যে ১৮ জনই রাজবাড়ী জেলার বাসিন্দা। বাকিরা কুষ্টিয়া, ঝিনাইদহ, গোপালগঞ্জ, দিনাজপুর এবং ঢাকার বাসিন্দা বলে জানা গেছে।

বৃহস্পতিবার (২৬ মার্চ) দুপুর সোয়া ১২টার দিকে ফায়ার সার্ভিসের মিডিয়া সেলের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা তালহা বিন জসিম দুর্ঘটনার বিস্তারিত জানান। এর আগে বুধবার বিকেলে ৫টা ২০ মিনিটের দিকে সৌহার্দ্য পরিবহনের বাসটি ফেরিতে ওঠার আগে সরাসরি পদ্মা নদীতে পড়ে প্রায় ৬০ ফুট গভীরে তলিয়ে যায়। দীর্ঘ সময় অভিযান চালিয়ে রাত ১২টা ৩৮ মিনিটে বাসটি উদ্ধার করা হয়। বাসটিতে আনুমানিক ৪০ জন যাত্রী ছিলেন বলে জানা গেছে।

নিহতদের মধ্যে রাজবাড়ীর ১৮ জন হলেন— রেহেনা আক্তার (৬১), আহনাফ তাহমিদ খান (২৫), সোহা আক্তার (১১), জহুরা অন্তি (২৭), কাজী সাইফ (৩০), তাজবিদ (৭), লিমা আক্তার (২৬), সাবিত হাসান (৮), জোসনা (৩৫), মর্জিনা আক্তার (৩২), সাফিয়া আক্তার রিন্থি (১২), ফাইজ শাহানুর (১১), নাজমিরা জেসমিন (৩০), আব্দুর রহমান (৬), উজ্জল শেখ (৪০), আশরাফুল, জাহাঙ্গীর এবং গাড়িচালক আরমান খান (৩১)।

বাকি আটজন হলেন— কুষ্টিয়ার মর্জিনা খাতুন (৫৬), রাজীব বিশ্বাস (২৮), ইসরাফিল (৩), আয়েশা সিদ্দিকা (১৩), ঝিনাইদহের আরমান (৭ মাস), গোপালগঞ্জের মুক্তা খানম (৩৮), দিনাজপুরের নাছিমা (৪০) এবং ঢাকার আয়েশা আক্তার সুমা (৩০)।

ফায়ার সার্ভিস সূত্র জানায়, উদ্ধারকারী দল ও স্থানীয়দের সহায়তায় মোট ৮ জনকে জীবিত উদ্ধার করা হয়। তবে হাসপাতালে নেওয়ার পর চিকিৎসক দুজনকে মৃত ঘোষণা করেন। বাসের ভেতর থেকে আরও ২২ জনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। সবমিলিয়ে মৃতের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ২৬ জনে। এর মধ্যে ফায়ার সার্ভিস ২৩ জন, স্থানীয়দের মাধ্যমে উদ্ধার হওয়া ২ জন এবং নৌবাহিনীর ডুবুরিরা ১ জনের মরদেহ উদ্ধার করেন।

এখনো আনুমানিক ৬ জন যাত্রী নিখোঁজ রয়েছেন এবং তাদের উদ্ধারে চেষ্টা চলছে। উদ্ধার অভিযানে ফায়ার সার্ভিসের ৪টি ইউনিট ও ১০ জন ডুবুরির পাশাপাশি সেনাবাহিনী, পুলিশ, বিআইডব্লিউটিএ, কোস্টগার্ড ও স্থানীয় প্রশাসনের সদস্যরা যৌথভাবে অংশ নিচ্ছেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *