দেশে টিআইএনধারী ১ কোটি ২০ লাখ: যেসব সেবা ও কাজে টিআইএন থাকা বাধ্যতামূলক

✍️ প্রতিবেদক: দীপ্ত বাংলাদেশ নিউজ ডেস্ক

দেশে বর্তমানে কর শনাক্তকরণ নম্বর বা টিআইএনধারী নাগরিকের সংখ্যা ১ কোটি ২০ লাখ ছাড়িয়ে গেছে। জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, এই বিশাল সংখ্যক টিআইএনধারীর মধ্যে চলতি বছরে আয়কর রিটার্ন জমা দিয়েছেন প্রায় ৪২ লাখ ৫০ হাজার ব্যক্তি। মূলত বিভিন্ন সেবা গ্রহণের সুবিধার্থে এনবিআরের ওয়েবসাইটের মাধ্যমে নাগরিকরা সহজেই এই টিআইএন সংগ্রহ করছেন।

বর্তমানে সরকারি ও বেসরকারি খাতের অন্তত ৪০ ধরনের গুরুত্বপূর্ণ কাজে টিআইএন বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। নিয়ম অনুযায়ী, সরকারি বা স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠানের কোনো কর্মকর্তা-কর্মচারীর মূল বেতন ১৬ হাজার টাকার বেশি হলে তাকে অবশ্যই টিআইএন গ্রহণ করতে হবে। একইভাবে বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের ব্যবস্থাপনা বা প্রশাসনিক পর্যায়ের কর্মকর্তাদের ক্ষেত্রেও এই নিয়ম প্রযোজ্য।

ব্যবসায়িক কর্মকাণ্ড ও সম্পদ ব্যবস্থাপনায় টিআইএন একটি অপরিহার্য দলিলে পরিণত হয়েছে। সিটি করপোরেশন বা পৌরসভা এলাকায় ট্রেড লাইসেন্স গ্রহণ ও নবায়ন, জমি বা ফ্ল্যাট নিবন্ধন এবং মোটরযানের মালিকানা বা ফিটনেস নবায়নের ক্ষেত্রে টিআইএন ছাড়া কোনো আবেদন গ্রহণ করা হয় না। এছাড়া ক্রেডিট কার্ড গ্রহণ, ব্যাংক থেকে ৫ লাখ টাকার বেশি ঋণ সুবিধা নেওয়া এবং আমদানি-রপ্তানির ক্ষেত্রে এলসি খোলার জন্য টিআইএন থাকা আবশ্যিক।

পেশাজীবীদের ক্ষেত্রেও কড়াকড়ি আরোপ করা হয়েছে। চিকিৎসক, আইনজীবী, প্রকৌশলী ও চার্টার্ড অ্যাকাউন্ট্যান্টদের পেশাগত সনদ নিতে টিআইএন প্রয়োজন। পাশাপাশি অভিজাত ক্লাবের সদস্যপদ লাভ, সন্তানদের ইংরেজি মাধ্যমে ভর্তি এবং সরকারি কোনো দরপত্রে অংশ নিতেও অভিভাবক বা আবেদনকারীর টিআইএন থাকতে হবে। এমনকি বিবাহ নিবন্ধক বা কাজিদের ক্ষেত্রেও এই নিয়ম কার্যকর রয়েছে।

রাজনৈতিক ও সামাজিক ক্ষেত্রেও এর প্রভাব বিস্তৃত। জাতীয় সংসদ নির্বাচনসহ সিটি করপোরেশন, উপজেলা বা পৌরসভা নির্বাচনে প্রার্থী হতে হলে টিআইএন থাকা বাধ্যতামূলক। এছাড়া মোবাইল ব্যাংকিং এজেন্ট, ডিস্ট্রিবিউটর এজেন্সি বা জনবল সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠানের মতো ক্ষুদ্র ও মাঝারি ব্যবসার ক্ষেত্রেও টিআইএন সনদ প্রদর্শন করতে হয়।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *