নরসিংদীতে ধর্ষণের বিচার চাওয়ায় কিশোরীকে তুলে নিয়ে হত্যার অভিযোগ

✍️ প্রতিবেদক: দীপ্ত বাংলাদেশ নিউজ ডেস্ক

নরসিংদীর মাধবদীতে ধর্ষণের বিচার চাওয়ায় ১৫ বছর বয়সী এক কিশোরীকে তার বাবার কাছ থেকে ছিনিয়ে নিয়ে হত্যার অভিযোগ উঠেছে। বৃহস্পতিবার (২৬ ফেব্রুয়ারি) সকালে উপজেলার মহিষাশুড়া ইউনিয়নের বিলপাড় ও দড়িকান্দির মধ্যবর্তী একটি সরিষা খেত থেকে ওই কিশোরীর মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। নিহত কিশোরী স্থানীয় এক টেক্সটাইল শ্রমিকের মেয়ে।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, বখাটে হিসেবে পরিচিত নূরা নামের এক তরুণের সাথে ওই কিশোরীর পরিচয় ছিল। অভিযোগ রয়েছে, গত ১৫ দিন আগে বাড়ি ফেরার পথে নূরার নেতৃত্বে ৫-৬ জন তরুণ কিশোরীর মুখ চেপে ধরে তুলে নিয়ে যায় এবং তাকে ধর্ষণ করে। এই ঘটনার বিচার চেয়ে স্থানীয় ইউপি সদস্য আহমদুল্লাহর দ্বারস্থ হয়েছিল কিশোরীর পরিবার। তবে বিচার পাওয়ার বদলে তাদের এলাকা ছেড়ে চলে যাওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়।

ভুক্তভোগী পরিবার জানায়, বিচার চাওয়ায় নূরা ও তার সহযোগীরা আরও ক্ষুব্ধ হয়ে ওঠে। উদ্ভূত পরিস্থিতিতে নিরাপত্তা শঙ্কায় বুধবার রাতে মেয়েকে খালার বাড়িতে রেখে আসতে যাচ্ছিলেন তার বাবা। পথে বিলপাড় এলাকায় পৌঁছালে নূরার নেতৃত্বে ছয় তরুণ কিশোরীকে তার বাবার সামনে থেকেই জোরপূর্বক ছিনিয়ে নেয়। রাতভর খোঁজাখুঁজি করেও কিশোরীর কোনো সন্ধান পায়নি পরিবার।

পরদিন বৃহস্পতিবার সকালে স্থানীয়রা সরিষা খেতে কিশোরীর মরদেহ পড়ে থাকতে দেখে পুলিশে খবর দেয়। মাধবদী থানা পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য নরসিংদী সদর হাসপাতাল মর্গে পাঠিয়েছে। ঘটনার পর থেকে অভিযুক্ত নূরাসহ অন্যরা পলাতক রয়েছে। এমনকি স্থানীয় সাবেক ইউপি সদস্য আহমদুল্লাহর ফোনও বন্ধ পাওয়া যাচ্ছে।

মাধবদী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) কামাল হোসেন জানান, প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে মেয়েটির সাথে নূরার কোনো সম্পর্ক ছিল যা পরিবার মেনে নেয়নি। বুধবার রাতে তাকে তুলে নিয়ে যাওয়ার তথ্যের ভিত্তিতে পুলিশ তদন্ত শুরু করেছে। ইতোমধ্যে সন্দেহভাজন একজনকে আটক করা হয়েছে। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পেলে ধর্ষণের বিষয়টি নিশ্চিত হওয়া যাবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *