অন্তর্বর্তী সরকারের বড় সিদ্ধান্ত হতো ক্যাবিনেটের বাইরে: সাবেক উপদেষ্টা সাখাওয়াত হোসেন

✍️ প্রতিবেদক: দীপ্ত বাংলাদেশ নিউজ ডেস্ক

সদ্য সমাপ্ত অন্তর্বর্তী সরকারের কার্যক্রম নিয়ে চাঞ্চল্যকর তথ্য প্রকাশ করেছেন সাবেক উপদেষ্টা ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) এম সাখাওয়াত হোসেন। বৃহস্পতিবার (২৬ ফেব্রুয়ারি) একটি গণমাধ্যমে দেওয়া সাক্ষাৎকারে তিনি দাবি করেন, সরকারের বড় ও গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্তগুলো আনুষ্ঠানিকভাবে উপদেষ্টা পরিষদের সভায় আলোচনা হওয়ার আগেই পরিষদের বাইরে থেকে নির্ধারিত হয়ে যেত।

সাবেক এই নির্বাচন কমিশনার আক্ষেপ করে বলেন, নির্বাচন ও রাজনৈতিক পরিবর্তন নিয়ে দীর্ঘ অভিজ্ঞতা থাকা সত্ত্বেও সরকার তার কাছ থেকে কোনো পরামর্শ নেয়নি। তিনি বলেন, “আমি তাদের কনসালট্যান্ট ছিলাম না। বড় সিদ্ধান্তগুলো ক্যাবিনেটের বাইরে অন্য কেউ ঠিক করত।” তিনি সরকারের ভেতরে একটি ‘কিচেন ক্যাবিনেট’ বা প্রভাবশালী মহলের অস্তিত্বের প্রতি ইঙ্গিত দেন।

সাক্ষাৎকারে সাখাওয়াত হোসেন সবচেয়ে গুরুত্বের সাথে উল্লেখ করেন ২০২৪ সালের আগস্টে পুলিশের ভূমিকা নিয়ে তার পর্যবেক্ষণ। স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টার দায়িত্ব পাওয়ার পর তিনি পুলিশের ব্যবহৃত ‘৭.৬২’ বোরের রাইফেল এবং হেলিকপ্টার থেকে স্নাইপারদের গুলিবর্ষণের ঘটনার তদন্ত করতে চেয়েছিলেন। তিনি বলেন, “আমি ভিডিওতে দেখেছি লুঙ্গি ও গেঞ্জি পরা ব্যক্তিদের হাতে পুলিশের রাইফেল। এমনকি হেলিকপ্টারে থাকা স্নাইপারদের অনেকের চেহারা ও শারীরিক গঠন আমাদের দেশের মানুষের মতো ছিল না।” তিনি আশঙ্কা প্রকাশ করেন যে, এই স্নাইপাররা হয়তো ‘বহিরাগত’ ছিল। তবে এই তদন্ত শুরু করার আগেই মাত্র এক সপ্তাহের মাথায় তাকে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে সরিয়ে শ্রম ও নৌ পরিবহন মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়।

এম সাখাওয়াত হোসেন আরও জানান, দায়িত্ব নেওয়ার মাত্র ৭-৮ দিনের মাথায় তিনি পদত্যাগ করতে চেয়েছিলেন। তৎকালীন প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসকে তিনি বলেছিলেন, “আমার পক্ষে থাকা সম্ভব না, থাকলে আপনিও বিব্রত হবেন।” তবে প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ অনুরোধে তিনি দায়িত্ব পালন অব্যাহত রাখেন।

বর্তমানে দেশে একটি নির্বাচিত সরকার দায়িত্ব গ্রহণ করার পর তিনি তার এই অম্লমধুর অভিজ্ঞতার কথা জনসমক্ষে নিয়ে আসলেন। ১৮ মাসের মধ্যে নির্বাচন সম্পন্ন হওয়াকে তিনি বড় সাফল্য হিসেবে দেখলেও নীতি-নির্ধারণী প্রক্রিয়ার অস্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *