বহুমুখী যুদ্ধের চাপে ভেঙে পড়ার মুখে ইসরায়েলি সেনাবাহিনী: আইডিএফ ও বিরোধীদের সতর্কবার্তা

✍️ প্রতিবেদক: দীপ্ত বাংলাদেশ নিউজ ডেস্ক

ইসরায়েলের সামরিক নেতৃত্ব ও বিরোধী দলের রাজনীতিবিদরা সতর্ক করে বলেছেন, বহুমুখী যুদ্ধের প্রবল চাপে ইসরায়েল ডিফেন্স ফোর্সেস বা আইডিএফ ভেঙে পড়ার কাছাকাছি চলে এসেছে। তীব্র সৈন্য সংকট এবং যুদ্ধ পরিচালনার সুনির্দিষ্ট কৌশলের অভাবকে তাঁরা এর মূল কারণ হিসেবে দেখছেন।

বিরোধী দলীয় নেতা ইয়ার লাপিদ টেলিভিশনে দেওয়া এক বিবৃতিতে বলেন, ‘আইডিএফের ব্যবহারের সীমা ছাড়িয়ে গেছে। সরকার আহত সেনাদের যুদ্ধক্ষেত্রে ফেলে রাখছে।’ এর এক দিন আগে সেনাপ্রধান লেফটেন্যান্ট জেনারেল এয়াল জামির নিরাপত্তা ক্যাবিনেটের বৈঠকে একই ধরনের সতর্কতা দিয়েছেন বলে ইসরায়েলি গণমাধ্যমে খবর এসেছে। জামিরের বরাত দিয়ে গণমাধ্যমে জানানো হয়েছে, তিনি নিরাপত্তা মন্ত্রিসভাকে বলেছেন— ‘ইসরায়েলি সেনাবাহিনী ধ্বংসের দ্বারপ্রান্তে।’

লাপিদ আরও অভিযোগ করেন, সরকার কোনো দূরদর্শী কৌশল ও প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম ছাড়াই অপর্যাপ্ত সৈন্য নিয়ে সেনাবাহিনীকে বহুমুখী যুদ্ধে পাঠাচ্ছে। সংরক্ষিত সৈন্যরা বর্তমানে পঞ্চম ও ষষ্ঠ দফা রোটেশনে যুদ্ধ করছেন। এই সংরক্ষিত সেনারা মারাত্মকভাবে ক্লান্ত ও বিপর্যস্ত এবং সেনাবাহিনীর কাছে মিশন সফল করার মতো যথেষ্ট সৈনিক নেই।

বৃহস্পতিবার টেলিভিশনে এক বিবৃতিতে সামরিক মুখপাত্র ব্রিগেডিয়ার জেনারেল এফি দেফ্রিনও সৈন্য সংকটের বিষয়টি স্বীকার করেছেন। তিনি জানান, বিভিন্ন সীমান্তে ‘আরও যুদ্ধ সৈনিক প্রয়োজন।’ বিশেষ করে লেবানন সীমান্তে যে প্রতিরক্ষা বলয় তৈরি করা হচ্ছে, তার জন্য অতিরিক্ত আইডিএফ সৈন্য লাগবে। এ ছাড়া পশ্চিম তীর, গাজা ও সিরিয়াতেও সৈন্যদের চাহিদা বাড়ছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।

এই তীব্র সংকট উত্তরণে ইয়ার লাপিদ আল্ট্রা-অর্থোডক্স হারেদি সম্প্রদায়কে অবিলম্বে সেনাবাহিনীতে নেওয়ার জোরালো দাবি জানিয়েছেন। ১৯৪৮ সালে ইসরায়েল প্রতিষ্ঠার পর থেকে পূর্ণকালীন ধর্মীয় গ্রন্থ পাঠে নিবেদিত এই সম্প্রদায় সামরিক সেবা থেকে অব্যাহতি পেয়ে আসছে। লাপিদ বলেন, ‘সরকারকে কাপুরুষতা বন্ধ করতে হবে। হারেদি সম্প্রদায়ে যারা ড্রাফট ফাঁকি দেবে, তাদের সব অর্থায়ন অবিলম্বে বন্ধ করতে হবে এবং দ্বিধা ছাড়াই তাদের সেনাবাহিনীতে নিতে হবে।’

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *