প্রায় মাসখানেক ধরে চলা ইরান যুদ্ধকে কেন্দ্র করে সামরিক জোট নেটোর ভেতরে ফাটল এখন প্রকাশ্য। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্পের রণকৌশল এবং মধ্যপ্রাচ্যে ইসরায়েলি অভিযানের সরাসরি অংশীদার হতে অস্বীকৃতি জানিয়েছে ফ্রান্স, ইতালি ও স্পেনের মতো গুরুত্বপূর্ণ মিত্ররা। এই অসহযোগিতার কারণে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল কিছু সামরিক অভিযান থেকে পিছু হটতে বাধ্য হয়েছে বলে খবর পাওয়া গেছে।
সম্প্রতি ইসরায়েলগামী মার্কিন সামরিক বিমানকে নিজেদের আকাশসীমা ব্যবহারের অনুমতি দেয়নি ফ্রান্স। ট্রুথ সোশ্যালে দেওয়া এক পোস্টে ট্রাম্প প্যারিসকে ‘অসহযোগিতাকারী’ হিসেবে বর্ণনা করেন। এর জবাবে ফ্রান্সের প্রেসিডেন্টের কার্যালয় জানিয়েছে, যুদ্ধের শুরু থেকে তারা যে নীতি গ্রহণ করেছে, এটি তারই অংশ। ফরাসি সরকারের এই পদক্ষেপে ক্ষুব্ধ হয়ে ইসরায়েলের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় ফ্রান্স থেকে সব ধরনের সামরিক সরঞ্জাম কেনা বন্ধ এবং দেশটির সামরিক বাহিনীর সঙ্গে সকল যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন করার ঘোষণা দিয়েছে।
এদিকে, ভূমধ্যসাগরীয় অঞ্চলের গুরুত্বপূর্ণ মিত্র ইতালিও তার সিসিলির সিগোনেল্লা বিমানঘাঁটিতে মার্কিন বোমারু বিমান অবতরণের আবেদন প্রত্যাখ্যান করেছে। ইতালির প্রতিরক্ষামন্ত্রী গুইদো ক্রোজেত্তো জানান, বিদ্যমান চুক্তির বাইরে কোনো সামরিক কার্যক্রম পরিচালনা করতে চাইলে বিশেষ অনুমতির প্রয়োজন, যা বর্তমান পরিস্থিতিতে দেওয়া সম্ভব হয়নি। অন্যদিকে, স্পেনও মার্কিন বিমানের জন্য তাদের আকাশসীমা পুরোপুরি বন্ধ রাখার সিদ্ধান্তে অটল রয়েছে। স্প্যানিশ প্রধানমন্ত্রী পেদ্রো সানচেজ শুরু থেকেই এই যুদ্ধের বিরুদ্ধে সরব ভূমিকা পালন করছেন।
ট্রাম্পের সমালোচনার তির থেকে রক্ষা পায়নি যুক্তরাজ্যও। লন্ডনের অসহযোগিতাকে বিদ্রূপ করে ট্রাম্প পরামর্শ দিয়েছেন, ‘সাহস সঞ্চয় করে’ হরমুজ প্রণালীতে গিয়ে নিজেদের তেল সংগ্রহ করতে। যদিও নেটো সদস্য জার্মানি মার্কিন ঘাঁটি ব্যবহারের অনুমতি দিয়েছে, তবে জার্মান প্রেসিডেন্ট ফ্রাঙ্ক-ভাল্টার স্টাইনমাইয়ার এই যুদ্ধকে ‘অবৈধ’ বলে মন্তব্য করায় বার্লিন ও ওয়াশিংটনের মধ্যেও অস্বস্তি তৈরি হয়েছে। মিত্রদের এমন বিভক্তি নেটোর সম্মিলিত প্রতিরক্ষা কাঠামোর ভবিষ্যৎ নিয়ে বড় ধরনের প্রশ্ন তুলে দিল।



